বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে শাঁখারী বাজার এলাকায় হোলি উৎসবে ভিড়ের মধ্যেই কলেজছাত্র রওনককে (১৮) ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি মারা যান। রওনক আজিমপুর নিউ পল্টন লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। কামরাঙ্গীরচরে রনি মার্কেট এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন সে। তার বাবা নেই। মা হেনা বেগম স্থানীয় ওয়ার্ডের মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার হেনা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ বলছে, ওই দুই তরুণীসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদে কিছু ক্লু মিলেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ কারণেই হত্যার রহস্য উদঘাটনে সময় লাগছে।
ডিএমপি’র লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালি জোনের সরকারী কমিশনার (এসি) বদরুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রওনক হত্যার ঘটনা আমরা তদন্ত করছি। জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু ক্লু পেয়েছি। এখন পর্যন্ত যে তথ্য পেয়েছি তা থেকে ধারণা করছি, প্রেমের কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি খুব শিগগির হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’
রওনকের বড় বোন খুশবু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই দুই তরুণীর একজনের সঙ্গে রওনকের প্রেম ছিল। ওই মেয়েটি প্রায় তাকে বিয়ে করতে বলতো এবং বিভিন্ন সময় ডেকে নিয়ে যেতো। রওনক না গেলে বিভিন্ন হুমকি দিতো। পরে ওই মেয়ের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তিন বছরের সময় নেওয়া হয়। বিয়ে না করায় রওনকের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল সে। ওই মেয়ে ও তার বান্ধবী আমার ভাইকে ডেকে নিয়ে বন্ধুদের দিয়ে খুন করিয়েছে। ’
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রওনকের সঙ্গে এক তরুণীর প্রেম ছিল। তাদের মধ্যে অতীতে কিছু ঝামেলা হয়েছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের সময় ওই তরুণী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি ঢাকার বাইরে ছিলেন। সেটির প্রমাণও তারা পেয়েছেন।
কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ২৫-৩০ জন যুবক নিহতকে কিল-ঘুষি মারে এবং ডান পায়ের উরুতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণীর বান্ধবী রওনককে ফোন করে শাঁখারী বাজারে নিয়ে আসেন। এসময় রওনকের সঙ্গে তার কয়েকজন বন্ধু ছিল। হোলি উৎসবের সময় কয়েকজন তাকে ধাওয়া করে পাশের গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে থাকা অজ্ঞাত যুবকরা তাকে মারধর এবং পরে ছুরিকাঘাত করে।
ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, শাঁখারী বাজার এলাকার জেলা জজ আদালতের বিচারপ্রার্থী নারী ও শিশু বিশ্রামাগারের সামনের রাস্তাটি চলে গেছে রায়শা বাজারের দিকে। আদালতের কিছু দূরেই রয়েছে একটি মসজিদ। এর বাম দিকে ৬০ গজ দূরে রয়েছে পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। জেলা জজ আদালতের সামনে রওনককে হত্যা করা হয়। রাস্তার মোড়ে থাকা স্কুলের গেটে একটি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। যা থেকে পুরো ঘটনাস্থল কাভার করে। মন্দিরের অপর পাশে থাকা সিসি ক্যামেরাটিতে শাঁখারী বাজার রাস্তাটি কাভার করে। অপর দিকে মসজিদের পাশের গেটে থাকা সিসি ক্যামেরায় ঘটনাস্থলের আংশিক দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, স্কুল গেটের সিসি ক্যামেরাটি পরিচালনা করে মন্দির কমিটি।
এ বিষয়ে শাঁখারী বাজার মন্দিরের কেয়ারটেকার দিলিপ বসাক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্যামেরাটি চললেও কোনও ফুটেজ সংরক্ষণ হয়নি। কারণ, মন্দিরের ঘর পরিষ্কার করার সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মনিটরকে টিভি ভেবে তার বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে সিসি ক্যামেরা চালু থাকলেও কোনও ফুটেজ সংরক্ষণ হয়নি।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জানে আলম মুন্সি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনার সময় কী ঘটেছিল এবং হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের কাজ শুরু করি। তখন দেখা যায় স্কুল গেটে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাটি চালু থাকলেও গত এক সপ্তাহের কোনও ফুটেজ ধারণ হয়নি। তবে হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে আমরা চেষ্টা করছি।’