সরকারের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রিভিশন করেছে বলে বিএনপি আইনজীবীদের অভিযোগের জবাবে দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘আজকে একটি ফৌজদারি রিভিশনের আবেদন দাখিল করেছিলাম। আজ শুনানি হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা কেন বাড়ানো হবে না, এই মর্মে আমরা আবেদন করেছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের আবেদনের মূল যুক্তিটা ছিল এই মামলায় খালেদা জিয়া মূল আসামি। তাকে দেওয়া হয়েছে পাঁচ বছর আর যারা সহযোগী (অপরাধী) তাদের দেওয়া হয়েছে ১০ বছর। এটা আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য না।’
খুরশীদ আলম বলেন, ‘বিচারপতি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘খালেদা জিয়া যে মূল আসামি, এটা কোথায় আছে? সেটা আমি রায় থেকে পড়িয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়েছি। আদালত দুই পক্ষকেই শুনে আদেশ দিয়েছে, বিষয়টি ব্যাখ্যা করা উচিত। এ জন্য কেন খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানো হবে না, এই মর্মে চার সপ্তাহের রুল দিয়েছেন আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে খালেদা জিয়া ও রাষ্ট্রকে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।’
রুলের বিষয়ে দুদকের আইনজীবী বলেন, ‘এই ক্রিমিনাল রিভিশনের রুলটায় খালেদা জিয়া যে আপিল দায়ের করেছেন, এবং তিনিসহ আসামি কাজী সলিমুল হক কামাল যে আপিলটা দাখিল করেছেন, এই দুটো আপিলের সঙ্গে এই রুলটিরও শুনানি হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে খুরশীদ আলম বলেন, ‘তারা (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) বারবার বলে আসছেন, দুদক সরকারের পক্ষে এসে সরকারের পারপাস সার্ভ করছে। এই মামলাটি দাখিল করেছে। আসলে আপনারা জানেন এবং আদালতকেও বলেছি, দুদক একটি স্বাধীন সংস্থা।’ তিনি বলেন, ‘মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনের। দুর্নীতি দমন কমিশন মামলাটির অনুসন্ধান, এফআইআর করেছে, চার্জশিট দিয়েছে। এ মামলার সব সাক্ষী দুদকের। আপিলে (আপিল বিভাগে) আমরা আপত্তি দিয়েছি। তো এখানে দুদক না এসে কে আসবে? আর দুদক আপিল করবে কিনা, সেটা সংস্থাটিই সিদ্ধান্ত নেয়। সেটা সরকার দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার প্রশ্নই আসে না।’