শনিবার (৩১ মার্চ) রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ ভবনের ৯-তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন তানভীর রহমান। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। বাবা ফসিউর রহমান। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে তানভীর মেজ। তার ছোট বোন পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই ফিন্যান্স বিভাগে।
তানভীর ২০০৫ সালে বি এ এফ শাহীন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যাল থেকে বিবিএতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এআইএস) বিভাগে সান্ধ্যকালীন এমবিএ কোর্সে ভর্তি হন।
ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানি পুলিশের বরাত দিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘তানভীর প্রায়ই তার স্বজনদের কাছে আত্মহত্যা করার কথা বলত। সে হতাশ হয়ে পড়েছিল। হতাশা থেকেই সে আত্মহত্যা করেছে। আমরা তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। তার ছোট বোন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়ে। তানভীরের স্বজনরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ বুঝে নেবেন।’
তানভীরের খালা মেহেরুননেসা সাংবাদিকদের বলেন, ‘তানভীর প্রায়ই বলত সরকারি চাকরি করার খুব ইচ্ছে তার। অনেকদিন ধরেই সে সরকারি চাকরির জন্য চেষ্টা করছিল। চাকরির পরীক্ষা দিয়ে এসে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির কথা বলত। চাকরি পেতে টাকা লাগে— এমন মন্তব্য করেও সে হতাশা প্রকাশ করেছে।’
মেহেরুননেসা জানান, তিন দিন আগে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি হয়েছিল তানভীরের। কিন্তু এই চাকরি পেয়ে সে সন্তুষ্ট ছিল না। সরকারি চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়ায় সে হতাশ হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ‘তানভীর অনেকবার বলেছিল সে আত্মহত্যা করবে। আমরা সবাই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আমিও তাকে বলেছি, আল্লাহ কপালে যেটা রেখেছেন সেটাই হবে। তোর তো চেষ্টার কোনও ত্রুটি ছিল না। কিন্তু কোনও কথাই হয়তো আমরা তাকে বোঝাতে পারিনি। আমরাও বুঝতে পারিনি আত্মহত্যা করার মতো এতটা হতাশ সে হয়ে পড়েছে।’
উল্লেখ্য, শনিবার (৩১ মার্চ) রাত পৌনে ৯টায় ঢাবি এমবিএ ভবনের ৯-তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন সান্ধ্যাকালীন কোর্সের শিক্ষার্থী তানভীর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রবিবার তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আরও পড়ুন-
ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবিতে মানববন্ধন
লিফট দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যু: কী প্রতিকার পেতে পারে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার