এর আগে মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) গভীর রাতে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, ডেমরা ও নিউমার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৯ সদস্যকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি হওয়া ১৮টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে ডিবি পুলিশের দুটি টিম।
এছাড়া গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগের একটি টিম চারজনকে আটক ও ১২টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। আটক ব্যক্তিরা হলো— রাজিব মুন্সী, আব্দুল রহিম, জাকির হোসেন ও মোক্তার হোসেন।
গোয়েন্দা পুলিশের পূর্ব বিভাগের আরেকটি টিম পাঁচ জনকে আটক ও চুরি হওয়া ৬টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। তবে এখনও তারা আটক ব্যক্তিদের নাম কিংবা মোটরসাইকেলের কোনও তথ্য দিতে পারেননি।
গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মো. আব্দুল বাতেন বলেন, ‘এই চক্রের মূল হোতা রাজিব মুন্সী। তার নির্দেশেই চক্রের অন্যান্য সদস্যরা মোটরসাইকেল চুরির পর সেগুলো মাদারীপুরের শিবচর, শরীয়তপুরের ভবেরচর, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় লুকিয়ে রাখে। পরে চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রি করতে তাদের আরেকটি চক্র কাজ করে।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘আমরা তথ্য পেয়েছি, মোটরসাইকেল চুরির জন্য রাজধানীতে বড় একটি চক্র কাজ করছে। এর সঙ্গে জড়িত বাকি সদস্যদের আটকে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।’
এরপর হতবাক করার মতো তথ্য দিলেন ডিবি’র যুগ্ম কমিশনার, “চোরচক্রের আটক সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, বিআরটিএ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এই চক্রটি মোটরসাইকেলের নতুন নম্বর বানিয়ে বিক্রি করে। তবে চেসিসের নম্বরের সঙ্গে নম্বর প্লেটের কোনও মিল থাকে না।”
মোটরসাইকেলের গ্রাহকদের প্রতি চোরাই কোনও জিনিস না কেনার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন মো. আব্দুল বাতেন। তার কথায়, ‘অনেকেই কম দামে মোটরসাইকেল পেয়ে কিনে থাকেন। তারা সাধারণত মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই করে দেখেন না। এমন হলে গ্রাহকরা আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।’
ডিবি’র যুগ্ম কমিশনারের ভাষ্য, “আমরা অনুসন্ধান করে চোরাই মোটরসাইকেল খুঁজে বের করলে দেখা যায়, এর মালিক বলেন— ‘আমি তো মোটরসাইকেলটি অন্য আরেকজনের কাছ থেকে কম দামে কিনেছি।’ এরপর যার কাছ থেকে ওই ব্যক্তি মোটরসাইকেল কিনেছেন তাকে খুঁজে বের করি। তারা উভয়েই কিন্তু অপরাধী। মূল অপরাধী হচ্ছে, যে চুরি করেছে।”