তিনি বলেন, ‘আদালত উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে ঐক্যবদ্ধতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এবং এই সিডিউলেই নির্বাচন হওয়া দরকার। সে নির্বাচনের জন্য আমরা একটি সময় নির্ধারণ করে দিতে আদালতকে বলেছি। প্রথমে আমরা ১৫ মে নির্বাচন চেয়েছিলাম। পরে আবার বলেছি, যেহেতু আপনারা (বিচারপতিরা) ও নির্বাচন কমিশন বলছে এই তারিখে (১৫ মে) নির্বাচন সম্ভব নয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত ২৮ জুনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে বলেছেন।’
বৃহস্পতিবার (১০ মে) গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আপিল বিভাগের আদেশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এর আগেও মামলাটির ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ স্থগিত চেয়ে আমরা চেম্বারে (চেম্বার আদালত) শুনানি করেছিলাম। পরে মামলাটি ফুল কোর্টে (আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে) শুনানির জন্য দেওয়া হয় এবং আজ সে আপিলের ওপর শুনানি হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে আপিল করেছিলাম তার আগে অন্য দলের প্রার্থী কিন্তু আপিল করেনি। যেদিন আমরা হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত পাবো সেইদিন তারা সময় চান আমাদের আপিলের সঙ্গে তাদের আপিল শুনানি করতে। সেই কারণে তাদের আপিলসহ আমাদের আপিল একসঙ্গে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। আবার একইসময়ে ইসিও একটি আপিল দায়ের করে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আজ শুনানিতে বলেছি,যিনি রিট পিটিশন করেন তিনি এরই মধ্যে নৌকা মার্কায় নির্বাচন করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি যে ওয়ার্ডগুলোর কথা বলেছেন সেখানে ২০১৩ সালে নির্বাচন হয়েছে। কাজেই এই যে ৬টি এলাকার কথা বলা হয়েছে সেই এলাকায় জিসিসি করপোরেশনের আওতাধীন গেজেট নটিফিকেশন হয়েছে এবং সেই গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একাধিকবার তিনি মামলা করেছেন। তিনি হাইকোর্টের পৃথক দুটি বেঞ্চে একই বিষয়ে রিট দুটি করেছিলেন। তার আগের রিট দু’টির শেষেরটি হাইকোর্টের রুল অনুসারে সবকিছু বর্ণনা করে তৃতীয় আদালতে মামলা করতে পারেন। কিন্তু তারা সেটা সাবপ্রেস (তথ্য গোপন) করেছেন। এই পয়েন্টগুলো আমরা আদালতে বলেছি। আদালতও আমাদের এই পয়েন্টগুলো বিবেচনা করেছেন। আমরা আদালতে আরও বলেছি, নির্বাচনের পদ্ধতির নোটিফিকেশন হয়ে গেলে নির্বাচন পদ্ধতির নিয়ে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। আমরা সিক্স ডিএলসি’র কথা বলেছি, ৪৮ ডিএলআর’র কথা বলেছি। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনেছেন এবং অন্যপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্যও শুনেছেন। ’
অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ধানের শীষের প্রার্থী। আমরা আদালতকে বলেছি, মানুষ দীর্ঘদিন পরে ধানের শীষে একটা ভোট দেওয়ার একটা অধিকার পেয়েছে, সুযোগ পেয়েছে। এই সুযোগ থেকে দয়া করে তাদের বঞ্চিত করবেন না। তাই আদালত যে আদেশ দিয়েছেন তাতে আমরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি।’
আরও পড়ুন:
গাজীপুর সিটি নির্বাচন ২৮ জুনের মধ্যে আয়োজনের নির্দেশ