‘ব্যানার’ টানিয়ে ক্ষমা চেয়ে অব্যাহতি পেলেন শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান

 

চেয়ারম্যান আজিজুল হকবগুড়ার শিবগঞ্জের বানাইল মহাশ্মশান দখল করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করার ঘটনায় ‘ব্যানার’ টানিয়ে স্থানীয়দের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আজিজুল হককে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হকের যৌথ হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। অন্যদিকে আজিজুল হকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী লায়েকুজ্জামান মোল্লা।

আদালতে শুনানিকালে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন উপজেলা চেয়ারম্যন আজিজুল হক। এ সময় হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গত ২৯ মে শ্মশান এলাকায় ব্যানার টানিয়ে শ্মশান কমিটি ও স্থানীয়দের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলে আদালতকে জানানো হয়। একইসঙ্গে ক্ষমা চাওয়ার একাধিক ছবি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

পরে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং আজিজুল হককে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।

মহাশ্মশানের জায়গা দখলের ঘটনায় আজিজুল হককে গত ২০ মে স্থানীয় জনগণের কাছে ‘ব্যানার’ টানিয়ে ক্ষমা চাইতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের এই একই বেঞ্চ। পরে তিনি ব্যানার টানিয়ে জনগণের কাছে মৌখিকভাবে ক্ষমা চাইলেও ব্যানারে ‘ক্ষমা চাই’ শব্দটির উল্লেখ ছিল না। তাই গত ২৭ মে শুনানিতে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। এ সময় আজিজুল হক ক্ষমা চাওয়ার জন্য পুনরায় সময় চেয়ে আবেদন করেন। তখন আদালত গত ৩০ মে‘র মধ্যে তাকে পুনরায় ‘ক্ষমা চাই’ উল্লেখ করে ব্যানার টানিয়ে ক্ষমা চাইতে নির্দেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ মে ব্যানার টানিয়ে স্থানীয়দের কাছে ক্ষমা চান তিনি। আর ক্ষমা চাওয়ার ছবি বৃহস্পতিবার আদালতে উপস্থাপন করা হয়। পরে আদালত শুনানি নিয়ে ওই উপজেলা চেয়ারম্যানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।

প্রসঙ্গত, শতবর্ষী শ্মশান দখলের অভিযোগে এর আগে গত ১৩ মে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান আজিজুল হককে তলব করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। 

এছাড়া আদালতের অন্য এক আদেশে কেন তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ এনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়েও তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুলের শুনানি নিয়ে বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে হিউম্যান রাইটস এন্ড পিচ ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে রুলের ওপর শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৬ সালের ২৬ জুন একটি জাতীয় দৈনিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান আজিজুল হকের বিরুদ্ধে স্থানীয় শতবর্ষী মহাশ্মশানের জায়গা দখল করা নিয়ে কবর প্রকাশিত হয়। পরে ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিচ ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৬ সালের ৩১ জুলাই আদালত রুল জারি করেন। 

রুল জারির পাশাপাশি আদালত এক আদেশের মাধ্যমে শ্মশান দখল ও সেখানকার নির্মান কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে ওই তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।