মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন, ‘যৌন নির্যাতন বন্ধে যে আইন-কানুন আছে, তা যথেষ্ট নয়। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। এ ব্যাধিকে দূর করার জন্য প্রতিটি মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই।’
বেসরকারি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এর মিডিয়া অ্যান্ড ম্যাস কমিউনিকেশন বিভাগের শিক্ষক আফরোজা সোমা বলেন, ‘মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্যই আমরা এই ক্যাম্পেইন করছি। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা ও বিভিন্ন শপিং মলের সামনে দাঁড়াচ্ছি। এতে সাধারণ মানুষরাও অংশ নিচ্ছে। আমাদের মূল বক্তব্য হচ্ছে–আসুন যৌন সন্ত্রাসদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। এর জন্য জনসচেতনাই মূল শক্তি।’
উন্নয়নকর্মী আফসানা কিশোয়ার বলেন, ‘নারীদের প্রতি যৌন নির্যাতন বন্ধের লক্ষ্যে উত্তরা রাজলক্ষী থেকে প্রথম এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পরে অনেকেই এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। আমরা দেশের প্রতিটি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি।’
এ সময় উপস্থিত সবাইকে এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে উন্নয়নকর্মী ফেরদৌস আরা রুমী বলেন, ‘সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সামাজিক এই ব্যাধিকে সমাজ থেকে তাড়াতে হবে।’ নির্যাতনকারীর সঠিক বিচারের জন্য বিচার প্রক্রিয়াকে সংক্ষিপ্ত করারও দাবি জানান তিনি।
অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট কৌশিক আহমেদ বলেন, ‘যৌন নিপীড়ন বন্ধে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও কমিটমেন্ট দেখি না। আর কমিটমেন্ট নিলেও তার বাস্তবায়ন দেখা যায় না। আমরা চাই, সরকার এমন পদক্ষেপ নিক, যেন ভুক্তভোগীরা খুব সহজে আইনি সহায়তা পান।’
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা প্লাকার্ডে লেখা ছিল– ‘ধর্ষককে প্রতিহত এবং প্রতিরোধ করতে হবে’; ‘আগে ধর্ষণ বন্ধ করুন পরে ভোট চান’; ‘ধর্ষণ বন্ধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আগে, ভোট পরে’; ‘ধর্ষণের শিকার নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না’; ‘নারী মানুষ, ভোগ্যবস্তু নয়’; ‘ধর্ষককে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বয়কট করুন’; ‘ধর্ষণের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’; ‘বিপণী বিতানে যৌন হয়রানি রুখে দাঁড়াও’; ‘ধর্ষণের বিচার উপযোগী আইনি কাঠামো চাই’।