র‍্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর নিখোঁজ মানিক

নিখোঁজ মানিকমোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে ১৪ জুন র‍্যাব পরিচয় দিয়ে তোফাজ্জল হোসেন মানিক নামে একজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর ২০ দিন পেরিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত মানিকের খোঁজ পায়নি তার পরিবার। তাদের দাবি, গত ২০ দিন ধরে তারা র‍্যাব-২ এর অফিস, মোহাম্মদপুর থানা, ডিবি কার্যালয়ে খোঁজ নিয়েছেন। কিন্তু কেউই মানিকের সন্ধান দিতে পারছে না।

কাটাসুর নামার বাজার রিয়েল এস্টেট এলাকার মজনু মোল্লার ছেলে তোফাজ্জল হোসেন মানিক। বাবার গাড়ি ব্যবসা দেখভাল করতেন তিনি। 

মানিকের বাবা বলেন,  ১৪ জুন রাত ১১টার দিকে বাড়ির কাছে চটপটির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মানিক। স্থানীয় দুই যুবককে সঙ্গে নিয়ে একটি মাইক্রো নিয়ে আসে র‍্যাব। এরপর মানিককে আটক করে তার শরীর তল্লাশি করে কোনও মাদক বা সন্দেহজনক কিছু না পেয়ে মারধর করা হয়। কী কারণে আটক বা মারধর করা হচ্ছে তা জানতো চাইলে কোনও উত্তর না দিয়েই মানিককে মাইক্রোতে করে নিয়ে যায়। মানিককে র‍্যাব- ২ এর কার্যালয়ে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে সেখানে গিয়ে খোঁজ নেওয়া হয়। তবে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। 

মজনু মোল্লা পরিবহন ব্যবসায়ী এবং জাতীয় শ্রমিক লীগ আঞ্চলিক শাখার (ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর) সাবেক কার্যকরী সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘নারী সদস্যসহ র‍্যাবের একটি দল  মাইক্রোতে করে আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে গেছে। তল্লাশি করে তার কাছে কিছু পায় নাই। পরদিন আমার মেয়ে ও স্ত্রী র‍্যাব-২ এর কার্যালয়ে গিয়েছিল। সেখানে রাতে যারা তুলে আনছিল তাদের একজনের সঙ্গে দেখা হয়। মানিক কোথায় আছে, কেমন আছে জানতে চাইলে অন্য একজন র‍্যাব সদস্য জানায়, ভালো আছে। এখন আর মারধর করা হবে না। খাবার-দাবার দেওয়া হচ্ছে।’ 

তবে র‍্যাব-২ এর অধিনায়ক আটকের বিয়টি স্বীকার করেননি বলে জানান মজনু মোল্লা। তিনি বলেন, ‘আমি উনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কথা বলেছি। কিন্তু উনি বলছেন, তাদের এখানে নাকি মানিক নামে কেউ আটক বা গ্রেফতার নেই।’

এ ঘটনায় ১৫ জুন মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

মানিকের বোন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনার পরদিন র‍্যাব অফিসে যাওয়ার পর আমাদেরকে একজন বললো ভাইয়া ভালো আছে। রাতে ভাইয়াকে নিয়ে যাওয়ার সময় একজন র‍্যাব সদস্যকেও আমি সেখানে দেখেছি। কিন্তু সিভিল ড্রেসে থাকায় নাম দেখতে পারিনি।’ 

আটকের বিষয়ে র‍্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ার উজ জামান বলেন,  ‘১৪ জুন আমাদের কোনও অভিযান বা আটকের ঘটনা ঘটেনি। তবে আমাদের কাছে একজন ভিকটিমের বাবা এসছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কে বা কারা উনার ছেলেকে গাড়িতে তুলে নিয়েছে। আমরা বলেছিলাম, গাড়ির নম্বরসহ অন্যান্য বিষয়গুলো আমাদেরকে জানালে উনাকে ছেলেকে উদ্ধারের ব্যাপারে কাজ করবো। কিন্তু তারা পরিবার থেকে তেমন কোনও সহযোগিতা করেনি। এছাড়া আমরা কাউকে আটক করলে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করি। তাকে আটক বা গ্রেফতার করা হলেও আদালতে পাঠানো হতো। এমন কাউকে র‍্যাব-২ আটক করেনি।’