আসকের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের ঢাকায় মারধর ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে ২ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পতাকা মিছিল বের করে। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা মিছিলে হামলা করে এবং রামদা, হাতুড়ি, বাঁশ ও লাঠি দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ চালায়। এ সময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলামকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন কর্মী এ হামলার সঙ্গে জড়িত বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে তরিকুলকে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার সুচিকিৎসার প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল থেকে গত ৫ জুলাই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকেও কোটা সংস্কার আন্দোলনের এক নেতাকে বের করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোর এমন ভূমিকায় আমরা উদ্বিগ্ন।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সংবিধানে শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ ও সভা-সমাবেশ করার অধিকার প্রতিটি নাগরিককে দিয়েছে। এটি প্রতিটি মানুষের মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার। যদি এক্ষেত্রে কোনও অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা থাকে, তবে রাষ্ট্র আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। কোনোভাবেই শক্তি প্রয়োগ বা অযাচিতভাবে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখে না। আমরা বেশ কয়েক বছর ধরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের বেপরোয়া আচরণ প্রত্যক্ষ করছি। তারা প্রায়ই আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে, যা কোনও অবস্থাতেই কাম্য নয়। সম্প্রতি একজন নারী শিক্ষার্থী গণমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, ২ জুলাই শহীদ মিনারে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ সমাবেশে ছাত্রলীগকর্মীরা তাকে মারধর করে। পরে সে সিএনজি নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় জোর করে সিএনজিতে ওঠে তাকে লাঞ্ছিত করে। এরপর তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও পুলিশ তাকে নানাভাবে অপমান করে। সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ ছাড়াই তাকে এক রাত হাজতে রাখা হয়। দেশব্যাপী কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর যে নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হচ্ছে তা বন্ধের দাবি জানিয়ে কোটা বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ত্বরিত নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানায় আসক। তরিকুলের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ও তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। নারী শিক্ষার্থীর নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। নাগরিকের মর্যাদা, নিরাপত্তা, সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার সর্বোপরি মানবাধিকারের প্রতি সরকারের শ্রদ্ধা ও সেসব রক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র।