এর আগে মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) ভারতের পুলিশ মুশারফ হোসেন ওরফে মুসা ও রুবেল আহমেদ ওরফে রুবেলকে উত্তর প্রদেশ পুলিশের সহায়তায় গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। এরপর তারা বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
পুলিশ সদর দফতরের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ভারতে গ্রেফতার হওয়া দুজনের বাড়িই ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর থানার টেংরিয়া গ্রামে। মুশারফ হোসেন মুসার বাবার নাম হাসান আলী। মুসা লেখাপড়া করেছে ময়মনসিংহের একটি মাদ্রাসায়। সে খুব ভালো ফুটবল খেলতো, জনপ্রিয়ও ছিল। তার ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধ ছিল। তবে তার বিষয়ে কোনও অভিযোগ নেই থানায়।’
এদিকে, রুবেল আহমেদ ওরফে রুবেল বড় হয়েছে তার নানাবাড়ি সিলেটে। সেও মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছে। মুসা ও রুবেলের সঙ্গে কোনও আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। তবে তারা একই এলাকার হওয়ায় পরিচিত। তাদের পারিবারিক অবস্থা তেমন ভালো নয়।
এই দুজনের কারও বিরুদ্ধে থানায় কোনও নাশকতার মামলা নেই। এমনকি জিডিও নেই। এলাকায় তাদের ভালো মানুষ হিসেবেই চিনতো বলে জানিয়েছে হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, ‘ভারতে এই দুজন গ্রেফতার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা তাদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছি। তারা নিজ এলাকায় কোনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে তথ্য পাইনি।’
ওসি বলেন, ‘মুসা খুব ভালো ফুটবল খেলতো, সবার সঙ্গে মিশতো। তবে ছয় মাস ধরে তাদের এলাকায় কেউ দেখেনি। ২০১৮ সালে তাদের সঙ্গে কারও দেখা হয়েছে বলে এমন লোক পাইনি।’
পুলিশ সদর দফতরের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘রুবেল নামের আমরা একজনকে খুঁজছি অনেক দিন ধরে। সেই রুবেল এই রুবেল কিনা, তা তদন্ত করছি। আমাদের সঙ্গে ভারতের পুলিশের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে।’
মঙ্গলবার ভারতের গণমাধ্যম বেশ গুরুত্ব দিয়ে এই দুই বাংলাদেশি-‘জেএমবি’ সদস্যকে গ্রেফতারের খবর প্রকাশ করে। পত্রিকাগুলো দাবি করেছে, বাংলাদেশে পুলিশের টানা অভিযানে তারা পালিয়ে ভারতে গেছে। ভারতে তারা বড় নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল বলেও পত্রিকাগুলোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
এর আগে এ বছরের প্রথমদিকে দুজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার পুলিশ। সেই দুই বাংলাদেশি নাগরিককে জেরা করেই প্রথম জানা যায় মুশারফ ও রুবেলের কথা। এরপর মুশারফ ও রুবেল দ্রুত জায়গা পরিবর্তন করে। তবে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) তাদের গতিবিধি নজরদারি করতে থাকে। সম্প্রতি গ্রেটার নয়ডার গৌতম বুদ্ধনগরে তাদের হদিস পায় এসটিএফ। তারপরই যোগাযোগ করা হয় উত্তর প্রদেশ পুলিশের সঙ্গে। তাদের সহায়তায় মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয় দুজনকেই।