র্যাব ডিজি বলেন, ‘দেশের ৩৬ হাজার বন্দির ধারণ ক্ষমতার জেলখানায় ৯০ হাজার বন্দি রয়েছে। এসব বন্দিদের ৪৪ শতাংশই মাদক মামলার। তার মানে জেলখানার ধারণ ক্ষমতার সমপরিমাণ বন্দি মাদক সংশ্লিষ্টতায়। সময় এসেছে এসব বন্দিদের জন্য বিশেষ জেল করার। বঙ্গোপসাগরের কোনও দ্বীপ বা বিচ্ছিন্ন কোনও জায়গায় সে জেল হতে পারে। দয়া করে এটা করে দিন, যাতে মাদক মামলার আসামিদের আলাদা করতে পারি। এতে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাটাও সহজ হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিবকে উদ্দেশ্য করে র্যাব ডিজি বলেন, ‘দেশের নিম্ন আদালতে বর্তমানে ৩০ লাখ মামলা পেন্ডিং আছে। অনেক আসামি ধরা হয় কিন্তু মামলার জট ও দীর্ঘ সূত্রিতার কারণে বাদী সাক্ষী না পাওয়ায় পার পেয়ে যায়। আমি দেশের ৬৪ জেলায় শুধুমাত্র মাদক সংক্রান্ত আসামিদের বিচারের জন্য একটি আলাদা আদালতের সুপারিশ করছি। সেটা ৫-৬ বছরের জন্যই হোক না কেন।’
বেনজির আহমেদ বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে প্রতি জেলায় একটা করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট বিশেষ আদালত করা যেতে পারে। কারণ আমাদের দেশের ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা মাত্র ১ হাজার ৮০০। বিশেষ আদালতের জন্য নতুন করে নিয়োগ দিতে হলে অনেক দীর্ঘসূত্রিতা দেখা যাবে। আমি বলবো বিশেষ আদালত করে তাদের বিচার করা হোক। বিচারে আসামি খালাস পাক, তারপরেও বিচারটা হোক।’
মাদক আইনের বিষয়ে তিনি বলেন,‘মাদকে একমাত্র শাস্তি হতে হবে মৃত্যুদণ্ড। মাদক বিক্রি, সেবন সবক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ সাজার বিধান থাকতে হবে মৃত্যুদণ্ড।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের কোনও সাংবাদিক গত ১০ বছরে কোনও মাদকের বিরুদ্ধে কোনও রিপোর্ট দেখিনি। অনেকে বলেন, গডফাদার ও গডমাদারদের ভয়ে তারা রিপোর্ট করতে পারেন না। আমি বলবো, এখন রিপোর্ট করতে লোক পাঠান, রিপোর্ট করেন, আমরা গডফাদার ও গডমাদারদের হাত ভেঙে দেবো।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অ্যাকশন প্ল্যানে চাকরিতে প্রবেশের সময় ডোপ টেস্ট করানো সিদ্ধান্তের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘অবশ্যই ভালো খবর। পৃথিবীর কোনও দেশই মাদকমুক্ত নয়, তবে এটা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে এটা আমাদের সর্বাত্মক যুদ্ধ, যে যুদ্ধে বিজয়ী হয়েই আমরা ঘরে ফিরবো। আমি চাই ডোপ টেস্ট শুধু চাকরির ক্ষেত্রে নয়, এটা রেনডমলি (সবার ক্ষেত্রে) চালু হোক।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি ডোপ টেস্টের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বেসরকারি চাকরিতে নিয়োগ কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সময়েও ডোপ টেস্টের বিষয়ে ভাবা হচ্ছে।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘এ পর্যন্ত মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ে জড়িত মোট ১৩ হাজার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১২ হাজারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারের সংখ্যাটা কম মনে হলেও আমাদের যতো সংখ্যক ফোর্স আছে সে অনুযায়ী অনেক বেশি।’