আন্দোলনকারীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান ডিএমপি কমিশনারের

ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়ানিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। শনিবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা আগামীকাল থেকে ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু করবো। যারা এর শুরু করেছে সেই কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। শিক্ষক, অভিভাবকদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, আপনারা আপনাদের ছাত্র-সন্তানদের স্কুলে ফিরিয়ে নিয়ে যান।’ ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, ‘তারা আমাদের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি। তারা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তারাই দেশ চালাবে। আমি যে পদে থেকে কথা বলছি তারাই এই পদে আসবে। মন্ত্রীর পদে তারাই আসবে। সুতরাং তাদের এখন শিক্ষালয়ে ফিরে যাওয়ার সময় এসেছে। আমাদের দায়িত্বটা পালন করতে দেন। আমরা তাদের স্পিরিট ধারণ করেছি। সেটাকে আমরা কাজে লাগাতে চাই। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তরিকভাবে রাষ্ট্রের সব সংগঠন মিলে চেষ্টা করে যাবো।’

এই আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে অনেক সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন ডিএমপি কমিশনার। তার ভাষ্য, ‘এই আন্দোলন এখনই শেষ করার সময় এসেছে। আমাদের কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।’

আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী ছাত্রছাত্রী ও পুলিশকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করার জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করেন কমিশনার। তার কথায়, ‘বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার ও উস্কানি ছড়ানো হচ্ছে। আপনার খেয়াল করবেন, নোংরা ভাষায় লেখা কিছু প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলো এই কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের কাজ না। একটি গোষ্ঠী পুলিশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা করছে। ২০১২ ও ২০১৩ সালের অগ্নিসন্ত্রাসের ছবি শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের ছবি বলে প্রচার করা হচ্ছে। এগুলো উদ্দেশ্যমূলক ও ভিত্তিহীন।’

নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, অদ্যাবধি পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করেছে। পেশাদারি দায়িত্ব পালনকালে সব ধরনের উস্কানি, দুরভিসন্ধিকে উপেক্ষা করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। তারপরও গত কয়েকদিনে রাজারবাগ, মিরপুর পুলিশ লাইন, কাফরুল থানায় হামলা করা হয়েছে। কাফরুল থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন্স) মারাত্মক আহত হয়েছেন। আমার ৩১ বছরের চাকরি জীবনে কোনও দিন রাজারবাগ পুলিশ লাইন বা মিরপুর পুলিশ লাইনে হামলা হতে শুনিনি। কিন্তু আজ হচ্ছে। আমি মনে করি, এসব কাজ ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের হতে পারে না। অনুপ্রবেশকারীরা এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে পুলিশ ও ছাত্রদের মুখোমুখি করতে চাচ্ছে। কোনও উস্কানিতে আমাদের কান দেওয়া যাবে না। আমরা দায়িত্ব পালন করে যাবো। কারণ, আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী।’

ছাত্রদের ওপর মিরপুরে ও দেশের অন্যান্য জায়গায় হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘ঢাকা শহরে দুই কোটি লোক। হাজার হাজার ছাত্র আন্দোলন করছে। তাদের মধ্যে দুয়েকটা ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম হতে পারে। কারণ, সব জায়গায় সব পয়েন্টে হয়তো আমাদের এত নজরদারি করার সুযোগ হয়নি। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতি আমাদের কোনও সমর্থন নেই। কেউ যদি এ ধরনের কাজ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।