মোটরসাইকেল আরোহীকে শিক্ষার্থী: আপনার কাগজপত্র দেখাতে কী সমস্যা?
আরোহী: কোনও সমস্যা নেই। তবে সময় কিল করতেছেন।
শিক্ষার্থী: আমরা কি আপনার ক্ষতি করতেছি কোনও?
আরোহী: না না ।
শিক্ষার্থী: (লাইসেন্স চেক করার পর), প্লিজ যান যান, ভাই আপনে যান। ফার্স্ট টাইম দেখাতেন। আপনার নিজের সময় আপনিই কিল করছেন।
এ সময় বাংলা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি (মোটরসাইকেল আরোহী) একটা প্রশ্ন করেছিলেন আপনার অথরিটি কে?
শিক্ষার্থী: দেখেন, অথরিটি এখন পুলিশের কাছেও নেই। (নিজের আইডি কার্ড দেখিয়ে) এই দেখুন অথরিটি। এতদিন যখন অথরিটি ছিল, তখন তারা কোথায় ছিল? এতদিন তো তারা দেখেনি।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনারা কি কন্টিনিউ করবেন এভাবে?
শিক্ষার্থী: না, আমরা কন্টিনিউ করবো না। সরকার যদি শেষ পর্যন্ত নিজেদের হাতে কন্ট্রোল না করে আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত করবো।
বাংলা ট্রিবিউন: কতদিন পর্যন্ত করবেন?
শিক্ষার্থী: যতদিন পর্যন্ত সরকার পুলিশ দিয়ে এগুলো না করাবে, ততদিন পর্যন্ত আমরা করবো।
বাংলা ট্রিবিউন: এখন যদি সাধারণ মানুষ সবাই অথরিটি নেয়, তাহলে কী অবস্থা দাঁড়াবে?
শিক্ষার্থী: সাধারণ মানুষ অথরিটি নিতে পারবে না। স্টুডেন্টদের নিয়ে আন্দোলন, স্টুডেন্টরাই করবে।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনাদের তো কোনও মুখপাত্র নেই। একেক জায়গায় দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষার্থী: আমাদের মুখপাত্র লাগবে না। আমরা সবাই মুখপাত্র। আমরা কোনও নেতার ফলোয়ার না। আমরা প্রত্যেকেই নেতা।
আরোহীকে শিক্ষার্থীরা: যান যান ভাই, আপনি রাস্তা মাপেন।
প্রসঙ্গত, শনিবার (৪ আগস্ট) সপ্তম দিনের মতো ঢাকার রাস্তায় নেমেছে শিক্ষার্থীরা। তবে আজ তারা সড়ক অবরোধ করেনি। মোড়ে মোড়ে তারা যানবাহনের কাগজপত্র বা ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখছে।
এরআগে, গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র্যাডিসন হোটেলের উল্টোদিকে) বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দর সড়কের বাম পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক ও শিক্ষার্থীদের চাপা দিয়ে ‘হত্যা’সহ নয় দফা দাবিতে রাজধানীতে আন্দোলন করে আসছে।