টিআইবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের এই আইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানার অধিকার আছে। কারণ তারা ন্যায়বিচার ও নিরাপদ সড়কের জন্য শুধু পথে নামেনি, অত্যন্ত সুন্দরভাবে তারা দেখাতে পেরেছে, সড়ক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের জ্ঞান ও চর্চা অনুকরণীয়। শিক্ষার্থীদের পরামর্শ ও সুপারিশ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে প্রস্তাবিত আইনটি যেমন সমৃদ্ধতর হতে পারে তেমনি সরকারও লাভবান হবে বলে মনে করে টিআইবি।
বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ১৯৮৫ সালে দণ্ডবিধিতে যে সংশোধনীর মাধ্যমে বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত যান চালনায় সংঘটিত মৃত্যুর ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছরে কমিয়ে আনা হয়, হাইকোর্ট ২০১৪ সালে তা অবৈধ ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছর বহাল থাকার কথা। অথচ গণমাধ্যম প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী প্রস্তাবিত আইনে তা ৫ বছর করায় কার্যত সাজা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আন্দোলনকারী তরুণ শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও মতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া তরুণ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক ও ন্যায় বিচার দাবির আন্দালনের প্রতি সরকারের তাৎক্ষণিক সাড়ার দৃষ্টান্ত হলেও আইনটির খসড়া প্রকাশ না করায় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘অনুমোদিত খসড়া বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রচারিত মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইনমন্ত্রী প্রদত্ত ব্যাখ্যায় এ বিভ্রান্তি আরও বিস্তৃত হয়েছে। চালক ইচ্ছা করে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বা ইচ্ছা করলে হত্যা এড়াতে পারতেন এমন ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি ৩০২ ও ৩০৪ ধারার প্রয়োগের বিধান অকার্যকর হয়ে যাবে, যদি বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত মোটরযান চালনার কারণে প্রাণহানির ক্ষেত্রে অন্য বিধান করা হয়। কারণ বেপরোয়া গাড়ি চালানো অবশ্যই চালকের ইচ্ছাধীন বিষয়। সুতরাং দুটোকে আলাদা করে সংজ্ঞায়িত করা বাস্তবসম্মত নয়।’
‘ন্যাশনাল রোড সেফটি স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন প্ল্যান’অনুসারে ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর খসড়া জাতীয় সংসদে পাশের আগেই জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, খসড়া অনুমোদনের পদক্ষেপ অন্দোলনে নামা অগণিত শিশুকে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। তাই তাদেরও অধিকার আছে, এই আইনে কী আছে তা জানার। এখন পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে উচ্চ আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণসহ অংশীজনদের সুপারিশ আমলে নিয়ে একটি যুগোপযোগী সড়ক পরিবহন ও নিরাপত্তা বিষয়ক আইন প্রণয়ন করতে হবে।’