এরআগে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এরপর থেকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। কিন্তু কারাবন্দি থাকায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানি অনেকটা থমকে দাঁড়ায়। ফলে এই মামলার বিচারকাজ শেষ করতে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরেই আদালত স্থাপনে গেজেট প্রকাশ করে সরকার।
গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই গেজেট অনুসারে বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) ‘কারা আদালত’ প্রথম দিনের বিচারকাজ শুরু করেন। বিচারের জন্য সেখানে খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে হাজির করা হলেও তার কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে জানতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ্ মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘গেজেট আমরা পাইনি। তাই ‘কারা আদালতে’ যাইনি। গেজেট না পাওয়ার কারণে আমরা এ মামলার শুনানি করতে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের অস্থায়ী আদালতে হাজির হয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে তার বিচার না করে ‘কারা আদালতে’ বিচারকাজ পরিচালিত হয়েছে।’’
এদিকে, কারাগারে আদালত স্থাপনে প্রকাশিত গেজেটকে বেআইনি ও অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এ বিষয়ে তার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গেজেটটি বেআইনি ও অসাংবিধানিকভাবে হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা আইনজীবীরা একমত আছি। আমরা এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো কিনা, সে বিষয়ে আলোচনা করছি।‘
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গেজেট হাতে না পেলেও বুধবার দুপুরে (৫ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টে বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্যরা। ওই বৈঠকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় কারা আদালতে না যাওয়ার বিষয়ে তার আইনজীবীরা সিদ্ধান্ত নেন।’
তবে কারা আদালতে প্রথমদিনের শুনানিতে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান আদালতে একাই উপস্থিত ছিলেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের দাবি, তিনি খালেদা জিয়ার পক্ষে নয় শুধু একজন পর্যবেক্ষক হিসেবেই আদালতে হাজির ছিলেন। আর সূত্র বলছে, ‘কারা আদালতে’ পরবর্তী শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা না গেলেও সেখানে মোস্তফা খান উপস্থিত থাকবেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার একজন আইনজীবী বলেন, ‘‘আমরা ‘কারা আদালতে’ শুনানি করতে যাবো না। আমাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতে মামলাটিতে কয়েকদিন শুনানি চলার পর এই প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করবো।’’
এদিকে মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিনগুলোতে আদালতে আইনজীবীদের হাজির না হওয়ার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি জয়নুল আবেদীন। তবে গেজেটের বৈধতা প্রশ্নের রিট করা হবে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা গেজেটের বৈধতা প্রশ্নে রিট দায়ের করবো কিনা, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে আলোচনা চলছে। আলোচনা শেষ হলেই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবো।’
ওই বৈঠকে উপস্থিত খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী বদরুদ্দোজা বাদল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কারা আদালতের বৈধতা প্রশ্নে রিট দায়ের করা হবে কিনা, সে বিষয়ে আলোচনা শেষ হয়নি। দুই-একদিনের মধ্যেই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবো।’
জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘এর আগেও বিভিন্ন স্থানে বিশেষ আদালত স্থাপন করেছিল। তখনও আদালত স্থাপনের বৈধতা প্রশ্নে রিট করা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো ধোপে টেকেনি।’