সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, ৫৭ ধারা এখন ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন উপায়ে বিভিন্ন ধারায় সম্প্রতি সংসদে পাস হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ঠাঁই নিয়েছে। এ আইনে হয়রানির সম্ভাবনা থাকায় সব ধরনের মাধ্যমে স্বনিয়ন্ত্রণ বা সেল্ফ সেন্সরশিপ বাড়বে। এ কারণে অংশীজন হিসেবে আইনটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান শিক্ষকরা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ আইনের অন্যতম মানবাধিকার বিরোধী দিক হলো, আইনটির মোট ১৪টি ধারার ক্ষেত্রে যে কোনও কিছু আমলযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য এবং রকমভেদে শাস্তির অতি উচ্চমাত্রা। এতগুলো ধারা জামিন-অযোগ্য রাখা এবং শাস্তির মাত্রার সূত্রেই আমরা ধারণা করতে পারি এই আইনটি প্রবর্তন করা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী, লেখক ও সাংবাদিকদের নির্যাতন করার জন্য।
শিক্ষকদের দাবি- এ আইনে অনেক বিষয়ের পরিপূর্ণ সংজ্ঞায়ন নেই। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার মতোই এ আইনের অস্পষ্টতার কারণে যথেচ্ছাচার ব্যবহারের সম্ভাবনা প্রবল। আর এ অস্পষ্টতার কারণে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়বেন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও গবেষকেরা। এর উদাহরণ দিতে গিয়ে বিবৃতিতে তারা বলেন,“৩২ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনও ব্যক্তি বেআইনিভাবে প্রবেশের মাধ্যমে কোনও সরকারি, আধা সরকারি, ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের অতি গোপনীয় বা গোপনীয় তথ্য ডিজিটাল বা ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে ধারণ, প্রেরণ ও সংরক্ষণ করেন বা সহায়তা করেন, তাহলে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের সাজা ও ২৫ লাখ জরিমানা।’ একজন সাংবাদিক বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য নথিপত্র সংগ্রহ করতে হয়। আর নথিপত্রের জন্য কোনও না কোনও অফিসে যেতে হয়; মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ক্যামেরা ইত্যাদির মাধ্যমে তথ্য রেকর্ড বা চিত্র ধারণ করতে হয়। আর এটা তার পেশাগত দায়িত্ব। এটা কখনও ‘বেআইনি’ হতে পারে না। তাই আমরা বলছি, এ ধারাটির কারণে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা রুদ্ধ হয়ে পড়বে। এই ধারাটি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের গবেষণার ক্ষেত্রকেও স্তব্ধ করে দেবে।’’
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী শিক্ষকরা হলেন– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, অধ্যাপক কাবেরী গায়েন, অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, সহকারী অধ্যাপক কাজলী সেহরীন ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক খান।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আর রাজী, সহকারী অধ্যাপক সুবর্ণা মজুমদার, সহকারী অধ্যাপক সায়মা আলম, সহকারী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, সহকারী অধ্যাপক সুদীপ্ত শর্মা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ-আল মামুন, সহকারী অধ্যাপক কাজী সেলিম রেজা নিউটন সহযোগী অধ্যাপক মামুন হায়দার।
স্ট্যামফের্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সহকারী অধ্যাপক তানিয়া সুলতানা, যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটির কলেজ অব ম্যাস কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া আর্টস এর টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট জাহেদ আরমান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের উজ্জ্বল মণ্ডল, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজমের অধ্যাপক সুমন রহমান, সিনিয়র লেকচারার নন্দিতা তাবাসসুম খান।
স্টেট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের জার্নালিজম কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সজীব সরকার, সিনিয়র লেকচারার কাজী আনিছ। স্ট্যামফের্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, সহকারী অধ্যাপক তপন মাহমুদ, সহকারী অধ্যাপক সামিয়া আসাদী। ইউনিভার্সিটি অব অসলোর পোস্ট ডক্টরাল রিসার্চ ফেলো, ডিপার্টমেন্ট অব ওরিয়েন্টাল ল্যাঙ্গুয়েজেস অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজের মোবাশ্বার হাসান। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশর সহকারী অধ্যাপক আফরোজা সোমা।
বাংলাদেশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির খণ্ডকালীন শিক্ষক জায়েদুল আহসান পিন্টু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবা রহমান, জার্মানির হামবুর্গ ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অফ জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশন স্টাডিজের শিক্ষক শামীম মাহমুদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রাইসুল ইসলাম, প্রভাষক ইব্রাহিম বিন হারুন প্রমুখ।