স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত বেবিচকের অ্যাভসেক সদস্য আটক

আটক নিরাপত্তা সদস্য ও যাত্রীস্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত থাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটির (অ্যাভসেক) এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তার নাম শরীফুল ইসলাম। এছাড়া ৫৮০ গ্রাম স্বর্ণসহ চোরাচালানে জড়িত এক যাত্রীকেও আটক করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনায় কাস্টম অ্যাভসেক সদস্য ও যাত্রী উভয়কে থানায় সোপর্দ করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস।

প্রসঙ্গত, বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বিমানবাহিনী, পুলিশ, আনসার, বেবিচক নিরাপত্তাকর্মীদের সমন্বয়ে অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি গঠন করা হয়। আটক শরীফুল ইসলাম আনসার থেকে অ্যাভসেকে যুক্ত হয়েছেন। তার অ্যাভসেক আইডি নম্বর টিসি ২০১৭, আনসার আইডি নম্বর ৭২১০৪।

ঢাকা কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার অথেলো চৌধুরী বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাত ৯টায় সৌদি এয়ারলাইন্সের (এসভি ৮০৪) ফ্লাইটের ওপর নজর রাখা হয়। ঢাকা কাস্টমস হাউসে প্রিভেন্টিভ টিম ও নিয়মিত শিফটের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান করছিলেন। ফ্লাইটটি রাত ৯টায় ল্যান্ড করার পরে বোর্ডিং ব্রিজ ৭-এ সংযুক্ত হয় এবং যাত্রীরা নামতে থাকেন।

উদ্ধার করা স্বর্ণতিনি বলেন, পরবর্তীতে সন্দেহভাজন যাত্রী ইয়াকুব মিয়াকে অনুসরণ করা হয়। গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার পর তার কাছে শুল্ক কর আরোপযোগ্য কোনও পণ্য থাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অস্বীকার করেন। কিন্তু এ সময় যাত্রীর মোবাইলে বারবার ফোন আসতে থাকে বাংলাদেশি একটি নম্বর থেকে।  এছাড়াও যাত্রীর মোবাইলে অ্যাভসেক সদস্য শরীফুল আলমের ছবিও পাওয়া যায়। কাস্টম কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে শরীফুল দৌড়ে স্টাফ গেট দিয়ে বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে যায়। পরে শরীফুলকে আটক করা হয়। তবে শরীফুল যে নম্বর থেকে ফোন করেছিল তার কাছে সেই মোবাইলটি পাওয়া যায়নি।

জিজ্ঞাসাবাদে শরীফুল জানান, তিনি বিমানবন্দর রেলস্টেশনের নিকটবর্তী স্থানে ওই মোবাইলটি ফেলে দিয়েছেন।

অথেলো চৌধুরী বলেন, পরবর্তীতে যাত্রী এবং অ্যাভসেক সদস্যকে কাস্টমস ব্যাগেজ কাউন্টারে নিয়ে আসা হয় এবং যাত্রীর দেহতল্লাশি করে ৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। আটক স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৯ লাখ টাকা।