দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধ করার জন্য চিহ্নিত অস্ত্র ব্যবসায়ী ছাড়াও যাদের কাছে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে এসব তালিকা ধরে তাদের গ্রেফতার করা হবে। আর এ অভিযান নির্বাচনের আগেই পরিচালনা করা হবে।
অন্য একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান সারাবছরই হয়ে থাকে। এটা সবসময় প্রায়োরিটির ক্ষেত্রে উপরের দিকে থাকে। তারপরও কিছু অস্ত্র ব্যবসায়ী অধরা থেকে যায়। যারা দেশে ও দেশের বাইরে থেকে এই অস্ত্র ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি কোন পথে কীভাবে এসব অস্ত্র আনা নেওয়া করা হচ্ছে সে বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
গোয়েন্দাদের তথ্যমতে, শুধুমাত্র রাজধানীতে তিন শতাধিক অবৈধ অস্ত্রধারী আছে। এসব অস্ত্রধারীরা অস্ত্র বেচাকেনার পাশাপাশি সারাদেশে চাহিদা অনুযায়ী ভাড়া দিয়ে থাকে। নির্বাচন আসলে অস্ত্রের চাহিদা বেড়ে যায়। ভাড়ায় নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে দেশের বিভিন্ন এলাকার দলীয় ক্যাডাররা। নির্বাচনে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
গোয়েন্দাদের কাছে থাকা তথেখ্যর ভিত্তিতে জানা গেছ, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারকারীরা অস্ত্র কেনার থেকে ভাড়ায় নিতে বেশি আগ্রহী থাকে। যে কারণে ভাড়ায় অস্ত্র নেওয়ার চাহিদা থাকে বেশি। ভাড়া নিতে আগ্রহীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ‘ছোট অস্ত্র’। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, অবৈধ অস্ত্র কিনে নিজের কাছে রাখা বেশ বিপদজনক। সে তুলনায়, চাহিদামতো ভাড়ায় নেওয়াটাকে বেশি নিরাপদ মনে করে অবৈধ অস্ত্রের গ্রাহকরা।
ভাড়ায় অস্ত্র নিতে আগ্রহীদের সংখ্যা সব জাতীয় নির্বাচনের আগে বেড়ে যায়। একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখেও এসব অস্ত্র হাত বদল হওয়ার আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা। তাদের দাবি, এসব অস্ত্রের হাত বদল খুব সাবধানে করে ব্যবসায়ীরা। বিশ্বস্ত কারো রেফারেন্স ছাড়া এসব অস্ত্র কেনা বা ভাড়া নেওয়া যায় না।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ক্ষমতাসীনদের সাপোর্ট নিয়েই অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসায়ীরা লেনদেন করে থাকে। তাদের ব্যবসায় ক্ষমতাসীনদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তা থাকে। এ ছাড়া অধিকাংশ অস্ত্র ব্যবসায়ীর রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়। ফলে সুনির্দিষ্ট ও নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা যায় না। তারপরও আমাদের উদ্ধার অভিযান বছরব্যাপী পরিচালিত হয়। কম-বেশি অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে। নির্বাচনের আগে এ অভিযান আরও জোরালো করা হতে পারে।
পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ বিভাগের এআইজি মো. সোহেল রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।