এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানান, এফবিআই ও কানাডিয়ান পুলিশ প্রমাণ পেয়েছে যে, হাওয়া ভবনকে প্রভাবিত করে নাইকো থেকে ঘুষ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আজকের (২৩ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব উদ্দিন খোকন অভিযোগ করেন, ‘আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন অনুসারে নিজস্ব পাবলিক প্রসিকিউটরের (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) মাধ্যমে দুদকের মামলা পরিচালনার নিয়ম থাকা সত্ত্বেও, অ্যাটর্নি জেনারেল বারবার নাইকো মামলা নিয়ে বক্তব্য দিয়ে মামলাটিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। তার এ ধরণের বক্তব্য বেআইনি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খালেদা জিয়াকে কারাগারে এবং তারেক রহমানকে বিদেশে রেখে তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন।’
বুধবার তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানান, তদন্তকারীরা প্রমাণ পেয়েছেন কীভাবে টাকা কানাডা থেকে অন্যান্য দেশ হয়ে, বিশেষ করে ক্লেমান আইল্যান্ড হয়ে সুইজারল্যান্ড, সেখান থেকে যুক্তরাজ্যে এবং তারপর বাংলাদেশে এসেছে এবং তা ঘুষ দিয়েছে। আর এভাবেই গ্যাসে পরিপূর্ণ একটি ফিল্ডকে (ভার্জিন ফিল্ড) পরিত্যক্ত দেখিয়ে নাইকো তৎকালীন বিএনপি সরকারের কাছ থেকে কাজটি নিয়েছিল। এভাবে তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আমাদের দেশের ক্ষতি করেছে। এই ক্ষতি করতে নাইকোর কর্মকর্তাদের যারা সহযোগিতা করেছেন তারা এই মামলার আসামি।
প্রতিবেদনে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন— বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, কামাল উদ্দীন সিদ্দিকী, খন্দকার শহিদুল ইসলাম, কাশেম শরীফ, সি এম ইউসুফ হোসেন, সেলিম ভূঁইয়া, গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, মীর মঈনুল হক এবং এম ডি শফিউর রহমান। এই প্রতিবেদনে গিয়াস উদ্দীন আল মামুনের নাম এসেছে এভাবে যে, তিনি তারেক রহমানের বন্ধু ছিলেন তার অনেক ক্ষমতা ছিলো এবং তার মাধ্যমেই এই লেনদেন হয়েছে।
এসব প্রতিবেদনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম আছে কিনা তা জানতে চাইলে মাহবুবে আলম জানিয়েছিলেন, এসব প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর নাম নেই। কেননা, ২০০২ সালের পরেই এই দুর্নীতি হয়েছে।
তবে অ্যাটর্নি জেনারেলের ওই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার খোকন দাবি করেন, ‘মূলত শেখ হাসিনা প্রথমবার ক্ষমতায় থাকাকালে নাইকোর সঙ্গে চুক্তি হয়েছিলো, এরই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়া তার সরকারের আমলে ফাইলটির অনুমোদন দিয়েছিলেন। তাই কানাডিয়ান পুলিশ ও এফবিআই এর প্রতিবেদন একপেশে। এমনকি এই মামলা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলও একপেশে বক্তব্য রাখছেন।’
মাহবুবে আলম জানিয়েছিলেন, তিনি কানাডা পুলিশ ও এফবিআই এর প্রতিবেদন বিশেষ জজ আদালত-৯ এ দাখিল করেন এবং যারা তদন্ত করেছেন তারা যাতে এ দেশে এসে তাদের পাঠানো প্রতিবেদনের স্বপক্ষে আদালতে বক্তব্য পেশ করতে পারেন সে বিষয়ে আবেদন জানান।
তবে ব্যারিস্টার খোকন দাবি করেন, নাইকো মামলা চলাকালীন এর তদন্ত প্রতিবেদনে এবং সাক্ষীর তালিকায় কানাডা পুলিশ কিংবা এফবিআই কর্মকর্তাদের নাম না থাকা সত্ত্বেও দেশে এনে তাদের তৈরি করা তদন্ত প্রতিবেদনের পক্ষে বক্তব্য দিতে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে যে আবেদন করেছেন সেটি আইনসম্মত নয়।
সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে খালেদা জিয়ার সুনাম নষ্ট করতে এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করছে বলেও মন্তব্য করেন খালেদা জিয়ার এই আইনজীবী।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান।
প্রসঙ্গত, কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন। এরপর ২০০৮ সালের ৫ মে ওই মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান। অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। এ মামলাটি বর্তমানে বিশেষ জজ আদালত-৯ এ বিচারাধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন...
‘নাইকো মামলায় ঘুষ গ্রহণের প্রমাণ পেয়েছে এফবিআই ও কানাডার পুলিশ’