এর আগে বিচারিক আদালত হাফিজ ইব্রাহিমকে দুদক আইনের ২৭(১) ধারায় ১০ বছর দণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই আইনের ২৬(২) ধারায় তাকে তিন বছরের দণ্ড ও জরিমানা করা হয়। পরে হাইকোর্ট বিভাগ দুদক আইনের ২৭(১) ধারায় দেওয়া দণ্ড বাতিল করেন। পাশাপাশি ২৬(২) ধারায় তার দণ্ড বহাল রাখেন। তবে তিনি এই মামলায় কিছু দিন সাজা ভোগ করায়, বাকি সাজা আর ভোগ করতে হবে না বলে তার ৫০ লাখ টাকার অর্থদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট।
তিন বছরের সাজা হওয়ায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘গত ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া দণ্ড বাতিলের আদেশের মধ্যে আমি পড়তে পারি। আমি অর্থ দণ্ড স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছি। তবে আবেদনটি এখনও শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়নি।’
গত ২৭ নভেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে অভিমত দেন।
প্রসঙ্গত, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে হাফিজ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাটি দায়ের করে দুদক। মামলায় ২০০৮ সালের ১৯ জুন হাফিজ ইব্রাহিমকে মোট ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। আপিলের পর হাইকোর্ট হাফিজ ইব্রাহিমকে খালাস দেন।
এরপর হাইকোর্টের খালাস আদেশের বিরুদ্ধে দুদকের আপিলের পর আপিল বিভাগ খালাসের রায় বাতিল করে পুনরায় মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টে পাঠান। পরে এর বিরুদ্ধে হাফিজ ইব্রাহিম রিভিউ করলে সেটিও খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।
আপিল বিভাগের আদেশের পর হাইকোর্ট বিভাগে এ মামলার পুনঃশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে গত ৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন। হাইকোর্টের ওই রায় গত ২৮ নভেম্বর প্রকাশ পায়। হাইকোর্টের সে রায়ে ৫০ লাখ টাকার অর্থদণ্ড স্থগিত চেয়ে আবেদন জানান হাফিজ ইব্রাহিম।