‘রাজধানীতে ব্যাচেলরদের বাসা ছাড়ার কোনও নির্দেশনা নেই’

ডিএমপিঢাকা মহানগরীতে ব্যাচেলরদের বাসা ছাড়ার কোনও নির্দেশনা দেয়নি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনও বাসায় নতুন মুখ দেখা গেলে তারা পুলিশি জেরায় পড়তে পারেন। এছাড়াও শিবিরের মেস হিসেবে পরিচিত বাসাগুলো বন্ধ করতে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে থানা পুলিশ। তবে ব্যাচেলর শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের কাউকে বাসা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। মূলত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাশকতা এড়ানোর জন্যই থানা পুলিশ এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ডিএমপির একাধিক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর পান্থপথের একটি মেসবাড়ির সামনে টানানো নোটিশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ইমরান মাহফুজ নামের এক তরুণ নোটিশটির ছবি তুলে, তার ফেসবুকে আপলোড করেন। এরপরই সেটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। নোটিশে লেখা রয়েছে— ‘২৭ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেসটি বন্ধ থাকবে। এই তারিখের মধ্যে এই বাড়িতে কাউকে অবস্থান না করার জন্য বলা হচ্ছে। ১ জানুয়ারি থেকে মেসটির কার্যক্রমর পুনরায় শুরু হবে।’ বাড়িটির মালিক এই নোটিশ দিয়েছেন বলে ইমরান তার স্ট্যাটাসে দাবি করেন।

পান্থপথ, রাজাবাজার, শুক্রাবাদ এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ মেসে থাকেন। এমনকি বিদেশি শিক্ষার্থীরাও মেস করে এই এলাকাতে থাকেন। এমন নোটিশ ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাচেলরদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাসা ছাড়ার কোনও নির্দেশনা নেই ডিএমপির পক্ষ থেকে।

৭২, পান্থপথ এলাকাটি ডিএমপির শেরেবাংলা নগর থানাধীন। এই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জি জি বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা যদি বাসা ছাড়ার নির্দেশ দেই। বাসা ছেড়ে ব্যাচেলররা কোথায় যাবেন? আমার থানা এলাকায় যতগুলো মেস আছে তাদের সবার তথ্য আমাদের কাছে আছে। আমরা তাদের বিষয় অবগত আছি।’ তিনি বলেন, ‘মেসে যারা আছেন তারা থাকবেন। তবে নতুন কোনও ব্যক্তি মেসে আশ্রয় নিলে বা বর্ডার উঠলে তাদের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এসব কাযক্রম আমরা আগে থেকেই করে আসছি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলাদা কিছু করা হচ্ছে না। তবে মেসগুলোতে পুলিশের তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বাসা ছাড়ার বিষয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। তবে কোনও থানা থেকে এ ধরনের অফিসিয়াল আদেশের কথা জানা যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কোনও মেস বাসায় যাতে কোনও অতিথি না থাকে, সে বিষয়ে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। যদি থাকে তাহলে বাসা ছেড়ে দিতে হবে। তবে সেটা সংশ্লিষ্ট বাসার বর্ডারদের জন্য নয়।’ এ বিষয়ে ডিএমপি কিংবা পুলিশ সদর দফতর থেকে সুনির্দিষ্ট কোনও নির্দেশনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ধরনের কোনও নির্দেশনা নেই।’

মহানগরীর মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ, বনানী, উত্তরা, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, মণিপুরি পাড়া ও মিরপুর এলাকার ব্যাচেলর ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেও বাস ছাড়ার নির্দেশনার কোনও কথা জানা যায়নি। তবে যেসব বাসায় কখনও শিবির ছিল বা এখনও শিবিরের মেস বলে পরিচিত, শিবিরের নেতাকর্মীরা যেসব এলাকায় বসবাস করেন, সেসব এলাকার মেসগুলোতে পুলিশ বহিরাগতদের অবস্থান করতে নিষেধ করেছে। যারা তথ্য ফরম দেয়নি, তাদেরও থাকতে নিষেধ করেছে।

কলাবাগানের বশিউর উদ্দিন সড়কের একটি মেসে চার মাস আগে শিবিরের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাতের যাতায়াত ছিল। কলাবাগান থানা পুলিশ এই বাড়িটি বন্ধ করে দিতে বলেছেন। কলাবাগান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ঠাকুর দাস মালু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কলাবাগানের বশির উদ্দিন সড়কের দুটি মেসের বিষয়ে আমাদের আলাদা অবজারভেশন আছে। তাই সেগুলোর বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থী বা ব্যাচেলরদের কোনও সমস্যা নেই। তারা তাদের বাসায় থাকবেন। কাউকে বাসা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।’

মেস বা বাসা ছাড়ার বিষয়ে তেজগাঁও এলাকাতেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও নোটিশের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ মেসগুলোতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের কোনও নির্দেশনা আমার থানা থেকে দেওয়া হয়নি। তাছাড়া ব্যাচেলররা কী মানুষ না, তারা বাসা ছাড়বে কেন?’ ডিএমপি থেকে এ ধরণের কোনও নির্দেশনা আপনারা পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, এ ধরণের কোনও নির্দেশনা আমরা পাইনি।’

রাজধানীর বাসা ও মেসগুলোতে অবস্থানরত ব্যাচেলরদের বাসা খালি করার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ব্যাচেলরদের সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বাসা ও মেস খালি করার কোনও নির্দেশনা ডিএমপি’র পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।’