ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির হত্যা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত নিয়ে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।
নুসরাত হত্যার ঘটনায় বিচারিক কমিশন চেয়ে করা এক রিট উপস্থাপনের পর রবিবার (২৮ এপ্রিল) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ মন্তব্য করেন হাইকোর্ট।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।
পরে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, ‘আদালতের কাছে সবকিছু মিলিয়ে পিবিআই’র কাজে সন্তুষ্ট প্রতীয়মান হয়েছে। ফলে বিচারপতিরা চান না আদালতের কোনও আদেশে মামলাটির তদন্ত প্রভাবিত হোক। আদালত বলেছেন, এখন পর্যন্ত তদন্তু সুষ্ঠুভাবে চলছে। এ মুহূর্তে তারা (বিচারপতিরা) হস্তক্ষেপের যৌক্তিক কারণ দেখছেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে যে তথ্য আছে তাতে আশা করছি এ মামলায় দ্রুত রিপোর্ট (চার্জশিট) আসবে। পিবিআই’কে সব রকমের স্বাধীনতা দেওয়া আছে।’
এর আগে ১৭ এপ্রিল ওই ঘটনা অনুসন্ধানে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।
ওই আবেদনে নুসরাতকে রক্ষায় অবহেলাকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ঘটনা অনুসন্ধানে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন, ঘটনার বিচারে মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, নুসরাতের পরিবারের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলাটি যথাযথ তদন্তে র্যাবের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রুল জারির আর্জিও জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পর মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য রাফিকে চাপ দেয় তারা।
পরে আগুনে ঝলসে যাওয়া রাফিকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত মারা যায়।