সোমবার সকালে এ ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শাহনওয়াজ দিলরুবা খানকে প্রধান করে দুই সদস্যের এ কমিটি করা হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন—নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শাহ হাবিবুর রহমান হাকিম। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম এ ঘটনায় আরেকটি কমিটি গঠন করেন বলে জানা গেছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শহিদুল হক পাটোয়ারীকে প্রধান করে চার সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন—শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, এএসপি (সার্কেল) আবির হোসেন ও বিআইডব্লিউটিসির এজিএম (মেরিন) একেএম শাজাহান। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
একই ঘটনা তদন্তে বিআইডব্লিউটিসির জেনারেল ম্যানেজার আশিকুজ্জামানকে প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। কমিটির অপর সদস্য হলেন সংস্থাটির ডিজিএম (মেরিন) মো. ফজলুল হক।
উল্লেখ্য, নড়াইল কালিয়া পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা ভাড়া করা একটি আইসিইউ সম্বলিত অ্যাম্বুলেন্সে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির উদ্দেশে রওনা দেন পরিবারের লোকজন। রাত ৮টার দিকে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌ-রুটের মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ১নম্বর ভিআইপি ফেরিঘাটে পৌঁছায় অ্যাম্বুলেন্সটি। তখন কুমিল্লা নামে ফেরিটি ঘাটে যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। সরকারের এটুআই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আবদুল সবুর মণ্ডল পিরোজপুর থেকে ঢাকা যাবেন বলে ওই ফেরিকে অপেক্ষা করতে জেলা প্রশাসক ঘাট কর্তৃপক্ষকে বার্তা পাঠানো হয়। তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর ফেরিতে ওঠে অ্যাম্বুলেন্সটি। কিন্তু এর মধ্যে মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যায় তিতাস।