আগুন লাগার কারণ এখনও জানাতে পারেনি কোনও সূত্র। তবে কেউ কেউ ধারণা করছেন,বস্তির কোনও ঘর থেকে রান্না করার সময় অসাবধানতাবশত আগুন লাগে। পরে তা দ্রুত পুরো এলাকায় ছড়িয়ে যায়।তবে স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। তবে কোনও পক্ষই এসব তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি। আগুন নেভাতে ব্যস্ত থাকায় ফায়ার সার্ভিস এসব বিষয়ে কোনও বক্তব্য এখনও দেয়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট কাজ করছে। তাদের সহযোগিতা করছে, পুলিশ ও ওয়াসা। সন্ধ্যার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় বস্তির বাসিন্দারা বেশিরভাগই বাইরে ছিল। ঈদের ছুটি থাকায় পোশাক কারখানার কর্মীরাও ছুটি কাটিয়ে এখনও বস্তিতে ফেরেনি।
জাহানারা বেগম নামের এক নারী বলেন, ‘আমার ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের পর বস্তির বেশিরভাগ বাসিন্দারাই বের হয়ে আসতে পেরেছে। ঈদের ছুটির কারণে পোশাক শ্রমিক যারা এখানে ভাড়া থাকেন, তারা এখনও আসেননি। তাই বস্তির ভেতরে আটকা পড়ার আশঙ্কা কম।’
আবুল হোসেন নামে বস্তির এক বাসিন্দা বলেন, ‘বস্তির ভেতরে আমার আমার ৯টা ঘর রয়েছে। এগুলো আমি ভাড়া দেই। একটি ঘরও বাঁচেনি। সব পুড়ে ছাই।’
আগুনের সূত্রপাতের বিষয়ে আবুল হোসেন বলেন,‘ শুনেছি বস্তির উত্তর পাশে ফরিদ নামের একজনের ঘর থেকে আগুন লেগেছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। তবে আমি নিশ্চিত না।’
তানিয়া নামের একজন নারী বলেন, ‘বস্তিতে আমার ১৫টি ঘর রয়েছে। সব পুড়েছে। আমি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বের হয়ে এসেছি। কিছু বের করতে পারিনি।’
মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী সাহস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখানে সহস্রাধিক ঘর রয়েছে। অন্তত একলাখ মানুষ বসবাস করে। নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস।’
তিনি জানান, এই বস্তির পাশের একটা মসজিদের ছয়তলা পর্যন্ত আগুন লাগে। মসজিদে আটকে পড়া মানুষদের পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে উদ্ধার করেছে।
আবদুল করিম নামে স্থানীয় আরেকজন জানান, বস্তির সব ঘর বাঁশ-কাঠ-টিন দিয়ে তৈরি। এ কারণে আগুন একটার পর একটা বাড়ি গ্রাস করে। আর উত্তাপ এত বেশি হয়েছিল যে বস্তির মাঝখানে ফায়ার সার্ভিসের মানুষ তো দূরে থাক পানিও দিতে পারেনি।
এসময় অনেক বস্তিবাসী এই আগুনকে ‘ষড়যন্ত্রের আগুন’, তাদেরকে ‘উচ্ছেদের জন্য পরিকল্পিতভাবে লাগানো আগুন’ বলেও অভিযোগ করছিলেন।
জানা গেছে, এই ঘটনায় অন্তত দুই জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোশতাক আহম্মেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। এখনও কোনও নিখোঁজের খবর পাইনি। হতাহতের বিষয়ে এই মূহুর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা ধারণা করছি হতাহত হবে না।’
আরও খবর...