বনানীতে র‌্যাবের কমান্ডো মহড়ায় হোটেল থেকে জিম্মি উদ্ধার (ভিডিও)

মহড়ার একটি দৃশ্যরাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ছদ্মবেশী জঙ্গিরা অতিথিদের জিম্মি করেছে। এমন খবর পেয়ে সেখানে অভিযানে যায় র‌্যাব। অভিযানে আট মিনিটের মধ্যেই উদ্ধার করা হয় অতিথিদের। নিহত হয় তিন জঙ্গি। আহতদের পাঠানো হয় হাসপাতালে।

শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে বনানীর ৫৯ নম্বর সড়কের নরডিক হোটেলসে এমন একটি মহড়া করেছে র‌্যাব। মূলত জঙ্গিদের জিম্মি দশা থেকে হোটেল বা বাসাবাড়ির আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে র‌্যাবের শক্তি প্রদর্শন বা জানান দেওয়ার জন্যই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়।

মহড়া শেষে র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘গত একমাস ধরে আমাদের কমান্ডাররা এই অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছে। মহড়ায় আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেছি। যেসব ইক্যুইপমেন্ট আমরা সাধারণত প্রদর্শন করি না, সেগুলোও আমরা এখানে দেখিয়েছি। এর মাধ্যমে মূলত র‌্যাব ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করেছে। তবে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। আরও ভালো ক্যাপাসিটি অর্জনের জন্য আমার চেষ্টা করছি।  গ্লোবাল লেভেল স্ট্যান্ডার্ড অর্জন করা আমাদের লক্ষ্য। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই, তাদের (জঙ্গি/সন্ত্রাস) জানান দেওয়া। যদি কেউ দুঃসাহস দেখায়, তাহলে মূহুর্তের মধ্যে তার দুঃসাহস চূর্ণ করে দেওয়ার মতো ক্ষমতা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আছে। সেটা আমাদের জানান দেওয়ার বিষয়। যেকোনও সময়, যেকোনও জায়গার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। ন্যায়, নিরাপদ ও আইনসঙ্গত কাজে আমরা দেশের সব নাগরিকের সহযোগিতা চাই।’

র‌্যাবের শক্তি ও সামর্থ নিয়ে বেনজির আহমেদ বলেন,  ‘র‌্যাব সব সময় সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে অতীতে পেরেছে, ভবিষ্যতেও পারবে।’

র‌্যাবের ডিজি বাহিনীগুলোর জঙ্গি মোকাবিলায় সামর্থ্যের বিষয়ে বলেন, ‘কোনও ক্যাপাসিটি, কোনও ক্যাপাসিটির বিকল্প না। আমাদের বাহিনীগুলো চেষ্টা করছে, তাদের ক্যাপাসিটি ডেভেলপ করার। বাহিনী যত বেশি ক্যাপাবল হবে, দেশ ততো বেশি সিকিউর হবে। আমরা সবাই জানি, আমাদের উন্নয়ন বলি, আমাদের অগ্রযাত্রা বলি, তার প্রথম শর্ত হলো, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা আমরা যদি নিশ্চিত করতে চাই, তাহলে অবশ্যই আমাদের সব বাহিনীর ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্যই আমাদের প্রত্যেকটি বাহিনীর ক্যাপাসিটি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা রয়েছে। হলি আর্টিজান হামলার ঘটনার পর থেকে র‌্যাব ক্যাপাসিটি অর্জনের চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে আমাদের অন্যান্য বাহিনীর ক্যাপাসিটি বাড়ানোর চেষ্টাও চলছে। এই ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি পেলে, নাগরিকেরা বেশিবেশি নিরাপদ বোধ করতে থাকবে। প্রতিটি বাহিনীর সদস্যরা তাদের আত্মত্যাগ করে কাজ করে। এখানে সন্দেহ করার কোনও কারণ নেই। কোনও বাহিনীর সঙ্গে কোনও বাহিনীরই কোনও প্রতিযোগিতা নেই। আমরা প্রত্যেকেই জনগণের জন্য কাজ করি। পেশাগত মনোভাব দিয়েই সবাই কাজ করছে।’

মহড়ার প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন বলেন, ‘একটি চক্র বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল। তারা শান্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করেছিল। তাদের সেই চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে র‌্যাবেরও অবদান রয়েছে। র‌্যাব এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।’

মোস্তাফা কামাল উদ্দীন আরও বলেন, ‘আজকের যে মহড়া হয়েছে, তা অত্যন্ত সুন্দর হয়েছে। যদি ভবিষ্যতে কোথাও কোনও বাড়ি, হোটেলে এ ধরনের জিম্মি দশার শিকার হয়; তাহলে র‌্যাব দমন করতে পারবে। তাদের কমান্ডো বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।’