আবরার হত্যার দ্রুত বিচার চায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি

আবরার ফাহাদবাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। বুধবার (৯ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে  পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন ও সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এসব দাবি জানান।

আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, ‘হত্যাকারীদের দল নেই। এ হত্যা মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা করছি। সেক্ষেত্রে এ মামলার প্রভাবমুক্ত বিচার চাইছি এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব খুনিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক (বিএনপি সমর্থিত) ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। আবরার ফাহাদের হত্যার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ৮ দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থনও জানিয়েছেন তিনি।

মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে এমন হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকার মাঝে-মাঝে জঙ্গি ধরে এবং ক্রসফায়ারের নাটকও করে, এদের জঙ্গি কর্মকাণ্ড অনেক সময় প্রকাশ পায় না। কিন্তু, আবরার হত্যাকারীরা হলো প্রকৃত জঙ্গি। এসব সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দ্রুত বিচার কার্যকর করতে হবে।’

মাহবুব উদ্দিন খোকন আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে নিজের চিন্তা, বিবেক ও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করার জন্য ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা তাকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এমন ঘটনা অত্যন্ত অমানবিক, মর্মান্তিক, পৈশাচিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা, যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রতিবন্ধীর মত চুপচাপ থাকতে পারে না।’
প্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে (২১)। পরদিন ৭ অক্টোবর আবরার হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এর আগে ৭ অক্টোবর দুপুরে দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ লাশের ময়নাতদন্ত করেন। তিনি বলেন, ‘ছেলেটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’ ৭ অক্টোবর রাতে ছেলেকে হত্যার অভিযোগে চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগ। আসামিদের মধ্যে মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৮ অক্টোবর ১০ জনকে আদালতে উপস্থাপন করে রিমান্ড চাওয়া হলে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।