অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে সিঙ্গাপুরের করাপ্ট প্র্যাকটিসেস ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোকে চিঠি দিয়েছে দুদক। অভিযোগ আছে ইতোমধ্যেই যারা চিহ্নিত হয়েছেন, তাদের অনেকের সম্পদ মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে আছে। মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের দুর্নীতি দমন কমিশন বা ওই জাতীয় কোনও সংস্থাকে চিঠি পাঠানো হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা এখনও সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে, তথ্য যদি আসে, তদন্তে যদি কিছু পাই, কাউকে জিজ্ঞাসাবাদে যদি তথ্য মেলে, তাহলে ওই দেশগুলোয়ও তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠাবো।’
সিঙ্গাপুরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে কোনও টিম পাঠানো হবে কিনা—জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘এখনও ঠিক বলা যাচ্ছে না, আমরা আগে তাদের কাছ থেকে জবাব পাই। ঘটনাটা আসলে কী, ওরা কী বলে আগে জানি। আমরা তো এখনও জানি না ওরা কী বলবে, ওদের জবাব পাওয়ার পরে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। ওই অভিযানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুদক তৎপরতা বাড়িয়েছে কিনা— জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমার মনে হয়, আপনারা একটা জিনিস ভুল করছেন, সরকারের শুদ্ধি অভিযানের সঙ্গে আমাদের অভিযানের কোনও সম্পর্ক নেই। সরকারের শুদ্ধি অভিযানের ফলে আমরা তথ্য পাচ্ছি। সরকার কী করবে, সেটি আমার জানা নেই। কথা হচ্ছে, আমরা তথ্য পাচ্ছি, তথ্য পাওয়ার পরে ব্যবস্থা নিচ্ছি। যেমন গণমাধ্যমে একটা রিপোর্ট প্রকাশিত হলো, সেখান থেকে যদি আমরা তথ্য পেলে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের কাছে এটা স্পেশাল অভিযান নয়। আমাদের জন্য এটি সাধারণ কাজ। আমরা কতদূর যাব, সে প্রশ্নের উত্তর এখনই দেওয়া যাবে না। এর সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়া জড়িত আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা লক্ষ করেছেন, আমরা উদ্যোগী হয়েই কিছু করছি না। আমরা তথ্য পাচ্ছি। তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থাও নিচ্ছি।’
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন করেন, অনুসন্ধান, মামলা ও তদন্ত করতে দেরি হয়। আমরা বলছি, আমাদের তো দেরি হবেই। কারণ হুট করে তো আমরা কিছু করবো না। তথ্য পাওয়ার পর সেই তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে দেখছি, কতটুকু সত্য বা সত্য নয়, আমাদের ম্যান্ডেট আছে কিনা—সব দেখেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
সম্প্রতি র্যাব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধানের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘কেউই একা কিছু করতে পারে না। সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা আছে।’ দুদককে সবাই সহযোগিতা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।