আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এম. সাখাওয়াত হোসাইন খান। আর র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাসুদ হাসান চৌধুরী পরাগ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ ও অমিত তালুকদার।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চার মাস আগে দেওয়া সাজার আদেশের অনুলিপি সরবরাহ করতে না পারার বিষয়ে সারওয়ার আলম হাইকোর্টের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আদালতকে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই আদেশের কপি সরবরাহ করা হয়েছে। তবে জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির সংকটের কারণে আদেশের কপি যথাসময়ে সরবরাহ করতে বিলম্ব হচ্ছে।’ তখন ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজার আদেশের অনুলিপি ৫ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারীর অনুকূলে সরবরাহ করা সংক্রান্ত পূর্বের আদেশের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। জবাবে আদালত বলেন, আপনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
একপর্যায়ে সারওয়ার আলমকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, ‘আদেশের কপি দিতে ৩-৪ মাস দেরি হচ্ছে কেন? সমস্যা কোথায়, সেটা বলুন।’ জবাবে সারওয়ার আলম বলেন, ‘একের পর এক অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত লজিস্টিক সাপোর্ট নেই।’ সারওয়ার আলমের বক্তব্য শোনার পর আদেশ দেন হাইকোর্ট।
প্রসঙ্গত, এর আগে ১৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জের বটতলা খালপাড়ের তপু এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার মো. মিজান মিয়াকে মৎস্য ও পশু খাদ্য আইন ২০১০ এর অধীনে এক বছরের সাজা দেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। এরপর মিজান মিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২১ জুলাই নারায়ণগঞ্জ বারের আইনজীবী অঞ্জন দাসের মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আপিলের জন্য আদেশের অনুলিপি চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু, আদেশের কপি না পেয়ে তারা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। এদিকে ২৯ অক্টোবর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের আবেদনের পর ৫ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মামলার সার্টিফায়েড কপি সরবরাহ করতে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন হাইকোর্ট বেঞ্চ।