উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন কুমার সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। ওসি বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। মোবাইল ফোনটি সারওয়ার আলীর সাবেক চালক নাজমুলের। এই নাজমুলের সঙ্গে বাড়ির দারোয়ান হাসানের একাধিকার কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে। একইভাবে নাজমুলের সঙ্গে বর্তমান চালক হাফিজেরও বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে। ঘটনার দিনও এই দু’জনের সঙ্গে অনেকবার কথা বলেছেন নাজমুল।’
হত্যাচেষ্টা মামলায় দারোয়ান হাসান ও বর্তমান চালক হাফিজকে সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে মূল সন্দেহভাজন নাজমুলকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
ওসি তপন কুমার সাহা আরও বলেন, ‘পলাতক চালক নাজমুলকে গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তাকে গ্রেফতারের পর হত্যাচেষ্টার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এছাড়া গ্রেফতার দু’জনকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
নাজমুল এক বছর আগে চাকরি ছেড়েছে বলে জানিয়েছেন সারওয়ার আলী। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নাজমুল আমার এখানে চাকরি করেছে চার মাস। আমার স্ত্রীর সঙ্গে বেয়াদবি করেছিল। এরপর সে নিজেই চাকরি ছেড়ে দেয়।’
মামলার এফআইআর ও সারওয়ার আলীর বরাত দিয়ে থানা পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে সারওয়ার আলীর মেয়ের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে ঢোকে দুর্বৃত্তরা। দু’জন দুর্বৃত্ত সারওয়ারের মেয়েজামাইকে ছুরির মুখে জিম্মি করে এবং খোঁজ করে সারওয়ার কোথায়? চতুর্থ তলায় জানানোর পর একজন দুর্বৃত্ত ওপরে চলে যায়, একজন তৃতীয় তলায় থাকে। চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে নক করার পর সারওয়ার দরজা খোলেন। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিচে ফেলে দিয়ে ছুরি ধরে এক দুর্বৃত্ত। এই দেখে সারওয়ারের স্ত্রী চিৎকার দিয়ে এগিয়ে আসলে তাকেও ছুরি দেখিয়ে জিম্মি করা হয়।
এরই মধ্যে তৃতীয় তলায় মেয়ে ও তার স্বামীকে জিম্মি করা ব্যক্তির ওপরে চেঁচামেচি শুনে দরজা খুলে দেখতে চায়। আর এই ফাঁকে তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেন সারওয়ার আলীর মেয়ে। তৃতীয় তলার ব্যক্তিও চতুর্থ তলায় এসে অপরজনের সঙ্গে যোগ দেয়।
তৃতীয় ও চতুর্থ তলার চিৎকার শুনে দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া ও তার ছেলে চতুর্থ তলায় ছুটে আসেন। ভাড়াটিয়া একজনকে জাপটে ধরেন। ছেলে অন্যজনকে টুল দিয়ে মারতে গেলে একজন পালিয়ে যায়। এরই ফাঁকে অপরজন গা-ঝাড়া দিয়ে ছুটে বাইরে চলে যায়।
বাসায় হামলার বিষয়টি জানাতে জরুরি সেবা নম্বর-৯৯৯ এ কল করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে সেখান থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বাড়ির গ্যারেজ থেকে একটি ব্যাগ পাওয়া গেছে। যাতে, কয়েকটি চাপাতি, একটা প্রেসার মাপার যন্ত্র, স্কচটেপ, রশি, আরও কিছু ওষুধ পাওয়া গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে এ ব্যাগটি সাবেক চালক নাজমুলের বলে জানিয়েছে দারোয়ান হাসান। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনটিও নাজমুলের বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন কুমার সাহা বলেন, ‘বাড়ির ভেতরে দু’জন প্রবেশ করেছিল। তাদের মধ্যে একজনের অবয়ব সাবেক চালক নাজমুলের মতো বলে জানিয়েছেন সারওয়ার আলীর মেয়ের স্বামী।’
বাড়ির ভেতরে দু’জন প্রবেশ করলেও বাইরে আরও কয়েকজন ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। তারা কারা ছিল, তা শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান ওসি।