অনশন ভাঙানোর সময় উপাচার্যের সঙ্গে ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী, সহকারী প্রক্টর আবদুর রহিম, ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মাযহারুল ইসলাম শয়ন, সদস্য ফরিদা পারভীন, রাকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য, মাহমুদুর রহমান প্রমুখ।
নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে গত সোমবার (৬ জানুয়ারি) ভোর থেকে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনে বসেন দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাতুল ইসলাম। পরে তার সঙ্গে যুক্ত হন আরও তিন জন। তারা হলেন— মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী ও ডাকসুর সদস্য সাইফুল ইসলাম রাসেল, তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের মোস্তাফিজুর রহমান, ইতিহাস বিভাগের ছাত্র ও মুহসীন হল ছাত্র সংসদের সদস্য আবদুর রহমান।
অনশন ভাঙাতে গেলে ধর্ষণের বিচারসহ শিক্ষার্থীরা তাদের চার দফা দাবি তুলে ধরেন এবং সিফাতুল ইসলাম উপাচার্যকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেন। উপাচার্য প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং প্রস্তাবটিকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন। এরপর উপাচার্য তাদের জুস ও পানি খাইয়ে অনশন ভাঙান।
উপাচার্য বলেন, ‘এ ঘটনায় সরকারের ওপরের মহলের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। যেহেতু ঘটনার সঙ্গে আমরাই জড়িত হয়ে পড়েছি, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, এটাই আমরা প্রত্যাশা করবো।’
এ সময় অনশনকারীদের একজন বলেন, ‘অনেক সময় আইনের ফাঁক-ফোকড় দিয়ে অনেক অপরাধী বের হয়ে যায়।’ তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য বলেন, ‘এর চেয়ে জঘন্য নির্যাতন আর হতে পারে না। এ ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তিই আমাদের প্রত্যাশা।’
আখতারুজ্জামান আরও বলেন, ‘তোমাদের আন্দোলনের সঙ্গে আমরা একমত রয়েছি। দাবি যদি অর্জন না হয়, তাহলে আমিও তোমাদের সঙ্গে অবস্থানে যাবো। তোমরা আমাদের সন্তান। কোনোক্রমেই আমরা তোমাদের ক্ষতি চাইবো না।’
প্রসঙ্গত, রবিবার (৫ জানুয়ারি) বিকাল ৪ টা ৪০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষণিকা বাসে করে ওই ছাত্রী বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কুর্মিটোলা বাসস্টপেজে নামার পর তাকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি অনুসরণ করতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে ফুটপাতের ঝোপে নিয়ে ধর্ষণ করে। রাত ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরলে ওই শিক্ষার্থী রিকশায় করে বান্ধবীর বাসায় যান। সেখান থেকে বান্ধবীসহ অন্য সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনার পর থেকে অপরাধীকে শনাক্ত, গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে আন্দোলন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, সোমবার (৬ জানুয়ারি) সকালে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে ওই ছাত্রীর বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে।