প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে তাজুল ইসলামের অফিস ও বাসায় অভিযান চালায় দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির উপ-পরিচালক আবু হেনা মো. আশিকুর রহমান।’ অভিযানের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি জানান।
এদিকে দিনাজপুর প্রতিনিধি বিপুল সরকার সানি জানান, পার্বতীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঘুষ বাণিজ্যের গোপন অভিযোগ ছিল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় দুদক। কার্যালয়ের আলমিরা, ড্রয়ার ও টেবিলের পাশে গুছিয়ে রাখা টাকার বান্ডিল পাওয়া যায়। এরপর সেখান থেকে ওই কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনে তল্লাশি চালায় দুদকের কর্মকর্তারা। সেখানে খাটের নিচ থেকে টাকা ভর্তি চারটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে মেশিনে গুণে ১ কোটি ৮৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এসব টাকা বিভিন্ন প্রকল্পের ‘কমিশন’ বলে স্বীকার করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাজুল ইসলাম। পরে তাকে আটক করা হয়।
দুদকের দিনাজপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিকাল পৌনে ৫ টার দিকে দুদকের উপ-পরিচালক আবু হেনা মো. আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল পার্বতীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। অফিসে এবং ওই কর্মকর্তার সরকারি বাসায় তল্লাশি করে প্রচুর টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে পার্বতীপুর অগ্রণী ব্যাংক থেকে মেশিন এনে টাকাগুলো গণনা করে ১ কোটি ৮৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়।
দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক তাজুল ইসলামকে শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) দিনাজপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে। এই অন্তবর্তীকালীন সময়ে তাকে দিনাজপুর জেলা পুলিশের বিশেষ হেফাজতে রাখা হবে।
দুদক দিনাজপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু হেনা মো. আশিকুর রহমান জানান, দুদকের হটলাইন ১০৬ -এর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের অনুমোদন নিয়ে দুদকের একটি দল পিআইও তাজুল ইসলামের কার্যালয় ও সরকারি বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা করা হবে।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দুর্নীতির কথা প্রায় সবারই জানা। টিআর (টেস্ট রিলিফ), রাস্তা নির্মাণ, দুস্থদের ঘর নির্মাণসহ যাবতীয় কাজে ভাগ বসাতেন তিনি। এরপরও তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।
তাজুল ইসলাম এর আগে ফুলবাড়ী উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি তিনি পার্বতীপুর উপজেলায় যোগ দেন। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নাজিরা খলিলগঞ্জ গ্রামে।