বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কমিয়ে এনে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের নেওয়া সিদ্ধান্ত এক মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
ব্যাংকটির ৬ কর্মকর্তার দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রবিবার (১২ জানুয়ারি) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন।
এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর বেসিক ব্যাংকের নিজস্ব বেতন কাঠামো বাতিল এবং রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকের সব কর্মকর্তার বেতন কমিয়ে ব্যাংকটির মানবসম্পদ বিভাগ একটি চিঠি জারি করে। চিঠিটি ব্যাংকটির সব শাখার প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, বেসিক ব্যাংক বিগত সাত বছর ধরে ক্রমাগত লোকসানে থাকায় ২০১৩ সালের প্রবর্তিত ব্যাংকের নিজস্ব বেতন কাঠামো ও অন্যান্য সুবিধাদি বাতিল করা হলো। বিগত সাত বছর লোকসান হওয়ায় আগের মতো বেতন দেওয়া সম্ভব হবে না। অন্যান্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের তুলনায় অত্যাধিক বেতন ভাতা চালু আছে বেসিক ব্যাংকে। এই অতিরিক্ত বেতন ভাতা ব্যাংকের পক্ষে বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এখন থেকে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগ কর্তৃক জারিকৃত ‘চাকরি (ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ ২০১৫’ এর অনুরূপ কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাবেন। ব্যাংকের বেতন কাঠামো বহির্ভূত অন্যান্য সুবিধাদি পর্ষদের অনুমোদনক্রমে প্রদান করা হবে।
গত ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের ৪৮৭ তম সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরে সে সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে ৬ কর্মকর্তা রিট দায়ের করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশসহ রুল জারি করলেন।