দীর্ঘ ৫ বছর পর নরসিংদীর শিশু ইলমা (১১) হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত পাঁচ জনকে গ্রেফতারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর দেড়টায় রাজধানীর মালিবাগের সিআইডির সদর কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
এর আগে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরার নেতৃত্বে একটি টিম নরসিংদী সদর থানা এলাকা থেকে মোতালিব, ফুফাতো ভাই মাসুম মিয়া, গ্রুপ লিডার শাহজাহান ভূঁইয়া, স্থানীয় মঙ্গলী বেগম ও মো. বাতেনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মাসুম মিয়া আদালতে ইতোমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালের ২৮ মার্চ ইলমার মৃতদেহ নরসিংদী থানার বাহেরচর গ্রামের একটি ধানক্ষেতে পাওয়া যায়। ইলমা বাহেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।’
তদন্তে জানা যায়, নরসিংদী থানার বাহেরচর দুর্গম এলাকায় শাহজাহান ভূঁইয়া ও সাবেক মেম্বার বাচ্চুর নেতৃত্বে দুটি দলের মধ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। শাহজাহান গ্রুপের সদস্য ও ইলমার ফুফাতো ভাই মাসুমের সঙ্গে বাচ্চুপক্ষের সদস্য তোফাজ্জলের মেয়ে তানিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ে করার জন্য তানিয়াকে মাসুমের ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি নিয়ে আসা হয়। পরে তানিয়ার বাবা দলবল নিয়ে তানিয়াকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় তানিয়ার বাবা বাদী হয়ে মাসুম, তার ভাই খসরু ও ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এরপর দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। বাচ্চু গ্রুপের সদস্যদের ক্ষতি করার লক্ষ্যে শাহজাহানের বাড়িতে ২০১৫ সালের ১ মার্চ রাতে মাসুমসহ ১৩ জন বৈঠক করে। প্রতিশোধ নিতে একটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বাচ্চু গ্রুপের বিরদ্ধে মামলা দায়ের করার বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রুপ লিডার শাহজাহান মোতালিবকে তার মেয়ে ইলমাকে টাকার বিনিময়ে হত্যা করার প্রস্তাব দেয়। মোতালিব ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে মেয়েকে হত্যায় রাজি হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম সিআইডিকে জানায়, ইলমা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রকৃত আসামিদের বাদ দিয়ে বাবা মোতালিব বাদী হয়ে বাচ্চু গ্রুপের বিলকিস, খোরশেদ, নাসুসহ অজ্ঞাত চার-পাঁচ জনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় ওই বছরের ৩১ মার্চ হত্যা মামলা দায়ের করেন। ইলমার বাবা হত্যাকাণ্ডের আগে টাকা দাবি করেছিল। পরে সে ওই টাকা আর পায়নি।