অসহায় ও নবীন আইনজীবীদের জন্য ৫০ লাখ টাকার ফান্ড

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি



করোনার সংকট মোকাবিলায় অসহায় ও নবীন আইনজীবীদের জন্য ৫০ লাখ টাকার ফান্ড গঠন করেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সমিতির সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সমিতি থেকে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনার কারণে দীর্ঘদিন আদালত বন্ধ এবং দেশ কার্যত লকডাউন থাকায় পেশাজীবী হিসেবে আমরা এক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি। বিশেষ করে আমাদের তরুণ বন্ধুদের বিষয়টি বেশি উদ্বিগ্ন করেছে। এমন এক অস্বস্থিকর পরিস্থিতিতে, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত কার্যকরি কমিটি ১০ এপ্রিল এক অনানুষ্ঠানিক সভায় সমিতির সদস্যদের কল্যাণে কতিপয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।  

সিদ্ধান্তগুলো হলো:
১. সমিতির বিদ্যমান বেনাভোলেন্ট অ্যান্ড ফান্ড রুলস, ২০০১ মোতাবেক কোনও সদস্য শুধু চিকিৎসা সুবিধার জন্য তার জমাকৃত অর্থের ৯৫ শতাংশ ঋণ হিসেবে নিতে পারেন। আমরা এটিকে শিথিল করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। একজন আইনজীবী তার জমাকৃত টাকার ৯৫ শতাং অথবা ২৫ হাজার টাকা, যে অংকটি কম, সে পর্যন্ত বিনা সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।  তিনি ৩ বছর পর্যন্ত সময় পাবেন এটি পরিশোধের।

২. বেনাভোলেন্ট ফান্ডের সুবিধা অনেক নবীন আইনজীবী পাবেন না বলে আমরা জানি। তাই তাদের বিষয়ে বিবেচনা করে আমরা আপাতত ৫০ লাখ টাকার একটি আপদকালীন ফান্ড সৃষ্টির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। একজন সদস্যের আবেদনক্রমে বিবেচনাপূর্বক এই ফান্ড থেকে ৩ বছরের মধ্যে পরিশোধযোগ্য সুদমুক্ত ঋণের আদলে অর্থ বরাদ্দ করা হবে।

৩. করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনজীবীদের জন্য বিশেষ অর্থ বরাদ্দ ও সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা চেয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে দাবি জানানো হবে।

৪. ভারত ও পাকিস্তানের আদলে ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর জন্য প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।

৫. সমিতির সামর্থ্যবান সদস্যদের স্বেচ্ছা অনুদানের মাধ্যমে ফান্ড সৃষ্টিতে সচেষ্ট থাকবো এবং একজন বিজ্ঞ সদস্যের প্রয়োজন মাফিক এই ফান্ড থেকে অনুদান হিসাবে অর্থ দেওয়া হবে।

সমিতির নতুন কমিটি আগামী ১৩ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করে সিন্ধান্ত সমূহ কার্যকর করবে।