কোর্ট খুলে দিলে করোনায় আক্রান্তের দায় নিয়ে বিচারপতির প্রশ্ন

1

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও সাধারণ প্রক্রিয়ায় আদালত ও বিচার সংশ্লিষ্ট সব অফিস চালুর সম্ভাবনার ক্ষেত্রে এর দায়ভার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী। তিনি বলেছেন, করোনার সংক্রমণের মধ্যে যদি সাধারণ পদ্ধতিতে কোর্ট ব্যবস্থাপনা চালু করা হয় এবং কোনও কর্মচারী যদি আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, তবে তার দায় কে নেবেন? আক্রান্ত ব্যক্তি তো তখন তার ভাগ্যকে দুষবেন না, তিনি বা তার পরিবার প্রতিষ্ঠানকেই দোষারোপ করবেন।

বুধবার (১০ জুন) একাডেমি অব ল’ অ্যান্ড পলিসির (আলাপ) উদ্যোগে লিগ্যাল ওয়েবিনার সিরিজের দ্বিতীয় পর্বে আয়োজিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিচারপতি ইমান আলী তার মতামত তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে ভার্চুয়াল কোর্ট পদ্ধতি চালুর ক্ষেত্রে নিজের সম্পৃক্ততার প্রশ্নে বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাবা তাকে পরামর্শ দিতেন, আন্তরিক কর্মপ্রচেষ্টা এবং সততা নিয়ে এগিয়ে গেলে জীবনের লক্ষ্য অর্জনে কেউ কখনও ব্যর্থ হয় না। বঙ্গবন্ধুর সেই কথাটি আমি বিশ্বাস করি বলেই বাংলাদেশে ভার্চুয়াল কোর্ট পদ্ধতি চালুর ক্ষেত্রে নিজের প্রচেষ্টায় অটল থেকেছি।’

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। এসময় আরও মতামত তুলে ধরেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের উপ-আবাসিক প্রতিনিধি ভ্যান এনগুয়েন। আর ওয়েবিনার পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রেশাদ ইমাম।

প্রসঙ্গত, একাডেমি অফ ল’ অ্যান্ড পলিসি (এএলএপি) হচ্ছে একটি স্বাধীন, অ-রাজনৈতিক ও অলাভজনক প্রচারমাধ্যম। যার মূল উদ্দেশ্য শীর্ষস্থানীয় আইনজ্ঞ, শিল্প খাতের নেতৃবৃন্দ এবং সমাজের উন্নয়ন অংশীদারদের একত্রিত করার মাধ্যমে দেশের সমসাময়ীক আইনি, নীতিগত এবং প্রতিবন্ধকতা সমূহ আলোচনা করা এবং সেসব আলোচনালব্ধ জ্ঞান থেকে বিষয়ভিত্তিক গবেষণা পরিচালনা, আইন ও নীতিগত সংশোধনের জন্য নীতি প্রনয়ণকারীদের কাছে প্রস্তাবনা তুলে ধরা।