ইউনিপেটুইউ’র এক বিনিয়োগকারীর অর্থ বিতরণে হাইকোর্টের রুল জারি

হাইকোর্টবিচারিক আদালতের রায় প্রতিপালন করে মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কোম্পানি (এমএলএম) ইউনিপেটুইউ’র এক বিনিয়োগকারীর অর্থ বিতরণ না করায় এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি বিশেষ জজ আদালত-৩ ঢাকার দেওয়া রায় অনুসারে ইউনিপেটুইউতে বিনিয়োগকারীর (আবেদনকারী) অর্থ বিতরণে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও আবেদনকারীর ৩ কোটি ৫ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা ২০১০ সালের নভেম্বর থেকে সুদসহ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে অর্থ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের এসব রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বুধবার (২৬ আগস্ট) বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জিয়াউল হক ও আইনজীবী সাইফুজ্জামান তুহিন।
এর আগে দুদক ২০১১ সালের ২৫শে জানুয়ারি ইউনিপেটুইউ -এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে। ওই মামলার রায়ে ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পানি ইউনিপেটুইউ’র চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ মোট ছয়জন কর্মকর্তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেন।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের ২৭০২ কোটি ৪১ লক্ষ ১১ হাজার ৭৮৪ টাকা ১৪ পয়সা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
রায়ে বলা হয়, তিনটি হিসাব নম্বরের বিপরীতে সর্বমোট ৪২০ কোটি ১৪ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৩ টাকা জব্দ করা আছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, দেশের লাখ লাখ জনসাধারণের আমানতের একটি ক্ষুদ্র অংশ উক্ত অবরুদ্ধ টাকা। উক্ত টাকা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের শনাক্তক্রমে তাদের তালিকা প্রস্তুত করে ন্যায় সঙ্গতভাবে তা ফেরত দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
কিন্তু বিশেষ জজ আদালতের রায় অনুসারে বিনিয়োগ করা অর্থ বিতরণ না করার নিষ্ক্রিয়তা/ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে বিনিয়োগকারী মিরপুর-১০ এর বাসিন্দা মো. মনজুর হোসেন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। আদালত সে রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করলেন।