রাজধানীসহ সারাদেশে বড়দিনে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিশেষ অনুরোধে এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ-র্যাবের পাশাপাশি গির্জা ও যেখানে বড়দিনের প্রার্থনা এবং অনুষ্ঠান হবে সেখানে সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করবেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শুক্রবার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। এদিন রাজধানীসহ দেশের সব গির্জায় থাকবে ধর্মীয় নানা আয়োজন। এসব স্থানে নানা শ্রেণিপেশার মানুষের সমাগম ঘটবে। একইদিন মুসলমানরাও হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও ওফাতের দিন হিসেবে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হবে। মসজিদ মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এ দিন জশনে জুলুছের মিছিলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করে। সম্প্রতি জঙ্গি হামলাসহ নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আগে থেকেই সতর্ক রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গত মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিশেষ অনুরোধ ছিল, এবার যেন নিরাপত্তা ব্যবস্থা দৃশ্যমান হয় এবং বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের অনুরোধেই এবার অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকবে। গোয়েন্দারাও কাজ করবেন সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। সারাদেশের পুলিশ সুপারদেরও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে রাজধানীর সব গির্জার ফাদার, পাদ্রি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে গির্জার এলাকায় পুলিশের বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক টহল দেবে। অগ্নিনির্বাপণের জন্য দমকল বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা-পুলিশ, প্রতিটি গির্জায় সিসি ক্যামেরা ও গির্জার পক্ষ থেকে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ করা হবে।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এস এম জাহাঙ্গির আলম সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বড়দিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গির্জাগুলোর আশপাশসহ র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে থাকছে র্যাবের ডগ স্কোয়াড ও বোমা নিস্ক্রিয়করণ টিম।
এ ব্যাপারে র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের উপ-পরিচালক মেজর মাকসুদুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও বড়দিনের বিশেষ নিরাপত্তায় তৎপর থাকবে র্যাব।
/জেইউ/এফএ/