আসামিদের আগে দেওয়া জামিন আদেশ রিকল চেয়ে করা রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে রবিবার (৪ অক্টোবর) বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি এম. আতোয়ার রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ।
রবিবার শুনানিকালে জামিন জালিয়াতির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত বলেন, ‘এই যদি জালিয়াতির নমুনা হয় আমরা কোথায় যাবো? হয়তো আমাদের দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার মামলার জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ বন্ধ করে দিতে হবে। এভাবে কত জামিন জালিয়াতি হয়েছে কে জানে? এভাবে কোর্টের সঙ্গে প্রতারণা করলে আমরা জজিয়তি (বিচার) করব কীভাবে?’
জামিন বাতিল হওয়া আসামিরা হলেন শেখ সাইফুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, খালিদ শেখ, ইস্কান্দার শেখ, জমির শেখ, জিয়ারুল শেখ ও আব্বাস শেখ।
জামিন জালিয়াতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জালিয়াতিতে আইনজীবীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।
এর আগে, ২০১৯ সালের ৭ আগস্ট খুলনার তেরখাদায় শত্রুতার জেরে নাঈম শেখকে (২৭) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় আহত হন নিহতের বাবা হিরু শেখ (৫৫)। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় পরদিন তেরখাদা থানায় ১৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী মাহফুজা বেগম। এই মামলার এজাহার, নিম্ন আদালতের জামিন না-মঞ্জুরের আদেশের অনুলিপি ও আসামিদের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পরিবর্তন করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট থেকে জামিন হাসিল করেন এই সাত আসামি। জাল-জালিয়াতির আশ্রয় করে নেওয়া জামিন বাতিলের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।