এর আগে ২০১৯ সালে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ তার আদেশে মামলাটি তদন্ত করতে পিবিআইকে নির্দেশ দেন। সে নির্দেশ অনুসারে পিবিআই তদন্ত শেষে নিহত মোর্শেদার স্বামীর বড় ভাইসহ চার আসামির বিরুদ্ধে গত ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এই অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটি অভিযোগ গঠন পর্যায়ে রয়েছে।
তবে এরই মধ্যে আসামি মারুফ রেজা তার বিচার শিশু আইনে করার জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেখিয়ে বলেন, ‘অপরাধ যখন সংঘটিত হয়েছে তখন আসামির বয়স ছিল ১৬ বছর ১০ মাস ২৬ দিন। সুতরাং ২০১৩ সালের শিশু আইন অনুযায়ী তার বিচার হতে হবে শিশু আদালতে। মহানগর দায়রা জজ আদালতে এই আসামির বিচার হতে পারে না।’
কিন্তু ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত গত ৭ অক্টোবর মারুফ রেজার আবেদনটি খারিজ করে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের আবেদন (রিভিশন) করেন মারুফ রেজা।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালের ২৫ এপ্রিল নিহত হন গৃহবধূ সগিরা মোর্শেদ সালাম। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আব্দুস সালাম চৌধুরী রমনা থানায় মামলা করেন। এ মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশ মন্টু ওরফে মরণের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। এরপর মামলাটিতে সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এই সাক্ষ্যগ্রহণকালে ঘটনার সঙ্গে মারুফ রেজা নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর মামলায় অধিকতর তদন্তের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে সে আদেশের বিরুদ্ধে মারুফ রেজা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন।
এরপর ১৯৯১ সালের ২ জুলাই হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন। একইসঙ্গে মামলা কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। মারুফ রেজা ছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়।
পরে ১৯৯২ সালের ২৭ আগস্ট আরেক আদেশে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এভাবে দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঝুলে থাকার পর হাইকোর্ট ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন এবং পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
তদন্ত শেষে সগিরা মোর্শেদের স্বামীর ভাই (ভাসুর) ডা. হাসান আলী চৌধুরী, ভাইয়ের স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা শাহিন ও শ্যালক আনাস মাহমুদ রেজওয়ান এবং মারুফ রেজার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই।