রাজধানীর মিরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় অভিনেত্রী আশা চৌধুরী নিহত হওয়ার ঘটনায় বাইকচালক শামীম আহমেদকে (৩৫) আটক করেছে দারুসসালাম থানা পুলিশ। পুলিশ বলছে, আশা যে মোটরসাইকেলে ছিলেন সেটি চালাচ্ছিলেন তার দূরসম্পর্কের এই ভাই। তাকে আটক করা হয়েছে। তবে ঘাতক ট্রাকচালককে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার দিনই সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের হয়।
বুধবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারুসসালাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহান আহমেদ বলেন, ট্রাকটি এখনও শনাক্ত করতে পারিনি। চালকের নাম-পরিচয়ও পাওয়া যায়নি। আমরা শনাক্তকরণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তবে ওইদিন রাতেই এ ঘটনায় আশা যে মোটরসাইকেলে ছিলেন তার চালক শামীম আহমেদকে আমরা সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছি। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।
এদিকে আশার দুর্ঘটনার সময় পেছনে থাকা একটি গাড়ির ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পিকআপের পেছনে মোটরসাইকেলে মোড় ঘুরতে দাঁড়িয়ে ছিল তার বাইকটি। হঠাৎ দ্রুতগতির একটি ট্রাক আশার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। ধাক্কা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশার বাইকের রাইডার ডানদিকে আর আশা বামদিকে পড়ে যান।
পুলিশের দারুসসালাম জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মিজানুর রহমান বলেন, ট্রাকচালক ও ট্রাকটিকে শনাক্তে চলছে। শামীম আটক আছেন। আশার পরিবার সন্দেহ করছে, শামীম ইচ্ছাকৃত এই দুর্ঘটনার পরিকল্পনা করতে পারে। তাই আমরা তাকে হেফাজতে রেখেছি।
প্রসঙ্গত, সোমবার দিবাগত রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তরুণ অভিনেত্রী আশা চৌধুরী। টেকনিক্যাল মোড়ে একটি ট্রাকের ধাক্কায় তিনি মোটরবাইক থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এতে তার মাথা থেঁতলে যায়। পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সেখানেই তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
আশা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউবিটি) আইন বিভাগে পড়ছিলেন। তিনি মিরপুরের রূপনগরে ২০ নম্বর রোডের ৩৭ নম্বর বাসায় থাকতেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিশুশিল্পী ছিলেন। বর্তমানে তিনি নিয়মিত প্যাকেজ নাটক, টেলিফিল্ম ও ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছিলেন।