সিলেটের এমসি (মুরিরচাঁদ) কলেজে গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় করা দুই মামলা একই আদালতে চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এই মামলার বাদী, সাক্ষী ও আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিলেটের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে মামলার বিচারিক আদালত পরিবর্তন চেয়ে আবেদন গ্রহণ করেননি হাইকোর্ট।
রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন ও ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আলোচিত সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ ধর্ষণের মামলার বিচারিক আদালত পরিবর্তন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন মামলার বাদী। আবেদনকারীর আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম লিটন বলেন, বাদী ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে বিচারিক আদালত পরিবর্তনের আবেদন করেছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৬ ধারায় আদালত পরিবর্তনের এই আবেদন করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে এমসি কলেজে বেড়াতে আসে এক তরুণী। এই সময় ক্যাম্পাস থেকে কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা ওই তরুণীকে স্বামীসহ কলেজ ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা স্বামীকে বেঁধে মারধর করে গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী সেদিন (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় মামলা করেন।
পরে গত ৩ ডিসেম্বর সাইফুরসহ ছাত্রলীগের আট নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক চৌধুরী অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এই অবস্থায় মামলাটির আদালত পরিবর্তনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন জানান মূল মামলার বাদী।