জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় ৮ আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এমন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান ৫৩ পৃষ্ঠার রায় পড়ে শোনান। পরে আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর মো. গোলাম ছারোয়ার খান জাকির।
রায়ের পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে গোলাম ছারোয়ার খান জাকির বলেন, ‘আদালত বলেছেন, আসামিরা আনসার-আল ইসলামের সদস্য। তারা সাভারের ব্লগার রিয়াদ মোর্শেদ বাবুকে হত্যা করে। আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর ফয়সল আরেফিন দীপন এবং লালমাটিয়ার শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর প্রকাশক টুটুলের ওপর হত্যার উদ্দেশে হামলা চালায়। জিহাদের অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যদের তথা অত্র মামলার আসামিদের লক্ষ্য ছিল প্রকাশক, ব্লগার, লেখকদের হত্যা করে মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়া। মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা। এসবের উদ্দেশ্য হলো মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা বন্ধ করা, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক চরিত্রকে ধ্বংস করে দেওয়া।’
‘ব্লগার অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশের জন্য জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ও প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনকে পরিকল্পনা করে হত্যা করে আসামিরা। এজন্য আদালত সকল আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। মামলার রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট’-বলেন তিনি।
ছারোয়ার খান আরও বলেন, যে দুজন আসামি এখনও পলাতক, আদালত থেকে তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট যাবে। এছাড়া আদালত থেকে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করলে অর্থাৎ যেদিন থেকে গ্রেফতার হবে সাজা সেদিন থেকে কার্যকর হবে। মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল মেজর (বরখাস্ত) সৈয়দ জিয়াউল হক।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলো মেজর (বরখাস্ত) সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ, মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান, আবদুর সবুর সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে সাধ, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে জিসান, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার এবং শেখ আবদুল্লাহ ওরফে জুবায়ের ওরফে জায়েদ ওরফে জাবেদ ওরফে আবু ওমায়ের। মামলায় প্রথম দু’জন পলাতক রয়েছেন।