রাজধানী ঢাকাকে নিরাপদ করতে ‘সেফ সিটি’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে পুলিশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পুলিশ সদর দফতর কাজ করছে। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানান।
এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘ঢাকায় অনেকগুলো উন্নয়ন কাজ হচ্ছে, এতে কিছু গোপন পকেট তৈরি হয়েছে। অপরাধীরা সেসব জায়গা দিয়ে শহরে প্রবেশ করে। এসব জায়গায় পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তাছাড়া মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় আলাদা পুলিশ ইউনিট করা হয়েছে। সবগুলো যখন ফরম করবে তখন নিরাপত্তার আরও শক্তিশালী হবে।’
‘সেফ সিটি’ প্রকল্পে থাকবে সিসি ক্যামেরা, সড়কের গাড়ি শনাক্ত প্রক্রিয়া এবং ব্যক্তির মুখমণ্ডল চিহ্নিতকরণ ক্যামেরা। যাতে অপরাধীরা কোনও অপরাধ করলে তার ছবি সিসি ক্যামেরায় ধরা পরবে এবং এনআইডির ছবির মাধ্যমে অটো চিহ্নিত হবে। নগরে এরকম অন্তত বিশ হাজার ক্যামেরা থাকবে।
বুধবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর একটি ডাকাত চক্রের গ্রেফতারের বিষয়ে ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, একটি চক্র ছিনতাই করা ট্রাক ও পিকআপ ভ্যান নিয়ে রাতভর ঢাকার পথেপথে ডাকাতি ও ছিনতাই করে বেড়াতো। তাদের টার্গেট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাদের গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। চক্রটির কেউ রাজমিস্ত্রী, কেউ হোটেল বয় কেউবা বিয়ে বা পার্টির ডেকোরেশনের কাজের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু রাতের বেলা তারা হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি ভোর সোয়া ৪টায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পিকআপ ভ্যান নিয়ে দুই ব্যক্তির গতিরোধ করে ছয় থেকে সাত জন ডাকাত। এরপর অস্ত্রের মুখে লুট করা হয় মোবাইল, নগদ অর্থ ও মালামাল।
এরপর গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের একটি টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্রসহ পেশাদার ছিনতাই-ডাকাত চক্রটির পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে।
জানাগেছে, চক্রটির নেতা শাওন আহম্মেদ জয় একাধিকবার গ্রেফতার হলেও ছিনতাই মিশন থামায়নি। বরং জেলে গিয়েও ডাকাত-ছিনতাই চক্র গুছিয়েছে। চক্রের প্রত্যেক সদস্যের বিরুদ্ধে রয়েছে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা।
চকবাজার থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তে জানা গেছে, ওই ডাকাতির ঘটনায় সাত জন ডাকাত অংশগ্রহণ করে। যার মধ্যে উল্লেখিত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। বাকি অভিযুক্তসহ এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ডিএমপি গোয়েন্দা প্রধান বলেন, ‘আমরা দেখেছি এই ধরনের অনেক ঘটনা ঘটলেও পুলিশের কাছে অভিযোগ হয় খুবই কম। আবার কোনও চক্র গ্রেফতার হবার পর অভিযোগ আসে। মহানগর এলাকাসহ এর আশপাশে এই ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হলে পুলিশকে অবশ্যই জানান। আমরা ব্যবস্থা নিবো। নিয়মিত সিসিটিভি মনিটরিং করা হচ্ছে।’
চক্রটির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এদের অধিকাংশদের বসবাস ঢাকার কেরাণীগঞ্জ এলাকায়। সেখানে তারা কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউবা ডেকারেশনের দোকানে আবার কেউ স্যানেটারি মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করে। কিন্তু রাতের বেলায় তারা ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। প্রথমে তারা পিকআপ ছিনতাই করতো। পরে তারা রাজধানীর মহাখালী, মিরপুরের শাহআলী, মিরপুর, গুদারাঘাট, শেরেবাংলা নগর এবং নারায়ণগঞ্জের ভুলতাসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই করতো।’