ব্যাকআপ টিম প্রস্তুত রেখে ছিনতাই, টার্গেট স্বর্ণ ব্যবসায়ী

ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে লেগুনা রুটের চাঁদা উঠানোর কাজ করে এই যুবক দল। সেখানেই একজনের সঙ্গে অন্যজনের পরিচয়। অসৎ উদ্দেশে গড়ে তোলে ২০ সদস্যের একটি চক্র। পরবর্তীতে সেই চক্রটি নামে ছিনতাইয়ে। কোনও ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৬ সদস্যের একটি ‘অপারেশন টিম’ অংশ নেয়। বাকী দুই টিম ব্যাকআপ হিসেবে স্পটের আশেপাশের উপস্থিত থাকে। 

সম্প্রতি শাহবাগের টিএনটি এক্সচেঞ্জ এর পূর্ব পাশে টেম্পো স্ট্যান্ড থেকে ৩৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ বলছে, যে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা এই ছিনতাইকারী চক্রের অপারেশন টিমের সদস্য। এই চক্রের অন্য সদস্যদের খুঁজছে পুলিশ। 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মিশু বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই ছিনতাইকারী চক্রটি কোনও ঘটনা ঘটনার আগে ২/৩ টি ভাগে বিভক্ত হয়। তাঁতিবাজার এলাকা থেকে যখন কোনও স্বর্ণ ব্যবসায়ী বের হন তখন তাকে অনুসরণ করতে থাকে। ৬ সদস্যের একদল মিলে ভিকটিমকে ঘিরে ফেলে। বেশি জোরাজুরি করলে প্রথম ব্যাকআপ টিম মূল দলের সঙ্গে যোগ দেয়। তখনও আরেক টিম অপেক্ষায় করে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। যদি কখনও অপারেশন টিম সাধারণ মানুষের কাছে ধরা পড়ে, তখন তৃতীয় টিম গিয়ে সাধারণ মানুষ সেজে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, এই চক্রের সব সদস্যই মাদক সেবন করে। ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল সব ধরনের মাদকই তারা সেবন করে। গ্রেফতার ৬ জনের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ও শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা এবং আশপাশের জেলা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মাজহারুল ইসলাম ওরফে রাকিব, জহিরুল তালুকদার, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে খোকা, সেলিম ওরফে ল্যাংড়া সেলিম, লালন ও সেলিম মিয়া। এ সময় উদ্ধার দুটি চাপাতি, দুটি চাকু, একটি এন্টি কাটার, একটি হাতুড়ি ও ছিনতাইয়ের দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

চক্রের মূল হোতাদের সন্ধানে গোয়েন্দারা

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র বলছে, একটি স্থানীয় প্রভাবশালী গ্রুপ এই ছিনতাইকারী চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করে। যারা প্রতিটি সফল ছিনতাইয়ের শেষে ৩০ শতাংশ ভাগ নেয়। তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ও রয়েছে। পুলিশ এই চক্রের সেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের শনাক্ত করেছে। তাদের বিষয়ে আরও খোঁজ খবর নিচ্ছে। তথ্য যাচাই বাছাই শেষে তাদের আইনের আওতায় আনবে।

ছিনতাই/ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে

সম্প্রতি রাজধানীতে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে। গত মাসে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, সংঘবদ্ধ এই ডাকাত দল সপ্তাহে একাধিক দিন ডাকাতির জন্য বের হয়। ডাকাতি করাই তাদের পেশা। একটি পিকআপ নিয়ে তারা বের হয়। পিকআপের সামনে থাকে তিনজন এবং পেছনে থাকে দুই থেকে তিনজন। মূলত, তাদের টার্গেট থাকে নগরীর মাছ, ফলমূল ও সবজির পাইকারি ব্যবসায়ীরা। আবদুল্লাহপুর, ফায়দাবাদ, তুরাগ এলাকা থেকে কাওরান বাজার পর্যন্ত, কখনও রামপুরা থেকে যাত্রাবাড়ী, যাত্রাবাড়ী থেকে ভূলতা-গাউছিয়া এই সড়কগুলো থেকে যাত্রী তোলে ডাকাত দলটি। গ্রেফতারের পর  তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পিকআপে যাত্রী তুলে অন্তত ডজনখানেক ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের দলে আটজন সদস্য রয়েছে। তারা যাত্রীবেশে থাকতো। গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কাঁচামাল বা সবজির ব্যবসায়ীদের পিকআপে তুলে সব কেড়ে নিয়ে রাস্তায় ফেলে দিতো।

ছিনতাইকারীর সংখ্যা কত

এই ঘটনার পর ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের নামে গোয়েন্দা পুলিশ। আটক করেন শতাধিক ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলকে। এত অভিযানের পরও কীভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ডিবি একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত কয়েকদিনে শতাধিক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোনও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলে থানায় অভিযোগ করলে এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে থাকে পুলিশ।