ঢাকার কেরানীগঞ্জে চলন্ত বাস থেকে বাকপ্রতিবন্ধী এক নারী যাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় এন মল্লিক পরিবহনের বাসের চালক সবুজ মিয়া (৪০) এবং হেলপার হাসান (২২) দ্বায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আদালতে।
শনিবার (১৩ মার্চ) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আশরাফ-উজ-জামান এর আদালতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা দুদিনের রিমান্ড শেষে দুই আসামিকে হাজির করেন। আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রের্কড করার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রের্কড করেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধরণ নিবন্ধণ( জিআর) শাখা থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার ৭ মার্চ সকাল পৌনে ৯টার দিকে এন মল্লিক নামের একটি বাস থেকে কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর বাজার এলাকায় ওই নারীকে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনাটির একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো ব-১৩-১৫২১। বাস থেকে ফেলে দেওয়া ওই নারী বাকপ্রতিবন্ধী। তিনি মাটিতে পড়ে প্রচণ্ড ব্যথায় গোঙাচ্ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত স্থানীয়রা তাকে রাস্তা থেকে তোলেন।
বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় ওই নারী টাইলসের ওপর লিখে তাকে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার কারণ সম্পর্কে উপস্থিত জনতাকে জানান।
ওই নারী লিখেছেন, ‘এন মল্লিক বাসে তিনা কোনাখোলা থেকে উঠেছিলেন। ভাড়া নাই। এন মল্লিক কোনোদিনও আমার থেকে ভাড়া নেয় না। এরা ভাড়া চায়। দিতে না পারায় এমন ব্যবহার। এন মল্লিকের সবাই আমাকে চেনে। ও মনে হয় চিনে নাই।’
একজন প্রতিবন্ধীর সঙ্গে এমন আচরণে অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং বিচার দাবি করে মানববন্ধন করেছিল স্থানীয়রা।