মা-বাবাকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ঐশী রহমানকে হাইকোর্টের দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন (লিভ টু আপিল) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে ঐশী রহমানকে আপিলের অনুমতি (লিভ টু আপিল) দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৫ মার্চ) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। অপরদিকে ঐশীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফয়সল এইচ খান।
এর আগে ২০১৭ সালের ৫ জুন ঐশী রহমানকে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন সাজা প্রদাণেনের রায় দেন হাইকোর্ট।বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ঐশী রহমানের মামলাটি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজ বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (রাজনৈতিক শাখা) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মা-বাবা খুন হওয়ার পর পালিয়ে যান ঐশী। এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ১৭ আগস্ট নিহত মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই মো. মশিউর রহমান রুবেল পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই বছরের ১৭ আগস্ট ঐশী রহমান রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করেন। এরপর ২৪ আগস্ট আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন ঐশী।
২০১৪ সালের ৯ মার্চ গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আবুল খায়ের মাতুব্বর আসামিদের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
অপর আসামি গৃহপরিচারিকা সুমি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কিশোর আইনে এবং ঐশীসহ তিন জনের বিরুদ্ধে অরেকটি চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধান আসামি ঐশী রহমানকে ডাবল মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন আদালত। অপর দুই আসামি ঐশীর বন্ধু রনিকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও জনিকে খালাস দেওয়া হয়।
এছাড়াও ঐশী রহমানকে সহযোগিতার অভিযোগ থেকে গৃহপরিচারিকা খাদিজা আক্তার সুমিকে খালাস দেন আদালত। ঢাকা মহানগর শিশু আদালতের বিচারক মহানগর দায়রা জজ আল মামুন এ আদেশ দেন।