ইন্টেরিয়র প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদফতর রাজধানীর গুলশানে একটি ইন্টেরিয়র প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রায় ৩০ কোটি ৩৬ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার তথ্য উদঘাটন করেছে। চারুতা প্রাইভেট লিমিটেড নামে ওই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়ায় সোমবার (১৫ মার্চ) ভ্যাট আইনে মামলা করা হয়েছে। 

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পরিচালক ফেরদৌসী মাহবুবের নেতৃত্বে একটি দল প্রতিষ্ঠানের ২০১২-২০১৩ থেকে ২০১৬-২০১৭ মেয়াদের কার্যক্রম তদন্ত করে। ভ্যাট গোয়েন্দা দল তদন্তের স্বার্থে দলিলাদি দাখিলের জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে তলব করে। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানের দাখিল করা বার্ষিক সিএ রিপোর্ট, দাখিলপত্র (মূসক-১৯) এবং বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ট্রেজারি চালানের কপি ও অন্যান্য দলিলাদি থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।

ভ্যাট গোয়েন্দাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চারুতা প্রাইভেট লিমিটেড ব্যবসায়িক কার্যক্রম কোড-এস-০২৪.০০ হিসেবে নিবন্ধিত হলেও এই সেবার পাশাপাশি সেবার কোড এস-০৫০.১০ অনুসারে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পণ্যের বিনিময়ে বাসভবন, বাণিজ্যিক ভবন, অফিস ইত্যাদির অবকাঠামো নির্মাণের নকশা প্রণয়ন ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে যেকোনও অবকাঠামোর ভেতরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ডিজাইন প্রণয়নসহ বিভিন্ন প্রকার সেবা সরবরাহ করে থাকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১-এর বিদ্যমান বিধিবিধান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রণীত আদেশ অনুযায়ী, আলোচ্য প্রতিষ্ঠানটির ক্রয় হিসাব পুস্তক (মূসক-১৬), বিক্রয় হিসাব পুস্তক (মূসক-১৭), চলতি হিসাব পুস্তক (মূসক-১৮) রক্ষণাবেক্ষণ ও মাসিক দাখিলপত্র (মূসক-১৯) সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে নিয়মিত জমা প্রদানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা তা পরিপালন করেনি।

মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৩৭-এর উপধারা (৩) মোতাবেক প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন আয়ের বিপরীতে এ সময়ে ১৭ কোটি ৫১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৫ টাকা পরিশোধ করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রদেয় ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ৩০ কোটি ৯৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩৯ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত বিক্রয় তথ্য গোপন করেছে। এতে  অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ১৩ কোটি ৪১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৬৪ টাকা ফাঁকি দেওয়ার ঘটনা  উদঘাটন করা হয়।

বিভিন্ন আয়ের বিপরীতে প্রযোজ্য এই ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের ওপর ভ্যাট আইন অনুসারে মাসভিত্তিক ২% হারে ১৪ কোটি ৩৭ লাখ ২২ হাজার ৬৬৯ টাকা সুদসহ আদায়যোগ্য হবে।

ভ্যাট গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্ণিত তদন্ত মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটি সিএ ফার্ম প্রত্যায়িত বার্ষিক অডিট রিপোর্টে প্রদর্শিত খরচের বিপরীতে উৎসে কর্তিত খাতে কোনও ভ্যাট প্রদান করেনি। কিন্তু এই সময়ে প্রতিষ্ঠানের প্রদেয় ভ্যাটের পরিমাণ ছিল এক কোটি ৪২ লাখ ১৭ হাজার ৭৪৩ টাকা।

বিভিন্ন খাতে প্রদর্শিত খরচের বিপরীতে উৎসে কর্তিত খাতে প্রযোজ্য এই ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের ওপর ভ্যাট আইন অনুসারে মাসভিত্তিক ২% হারে এক কোটি ১৪ লাখ ৭১ হাজার ৪৩৮ টাকা সুদসহ আদায়যোগ্য হবে।

বর্ণিত তদন্ত মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটি সর্বমোট অপরিশোধিত ভ্যাটের পরিমাণ ১৪ কোটি ৮৩ লাখ ৯২ হাজার ৪০৬ টাকা এবং সুদ বাবদ ১৫ কোটি ৫১ লাখ ৯৪ হাজার ১০৭ টাকাসহ মোট ৩০ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৫১৩ টাকা ফাঁকির তথ্য উদঘাটিত হয়েছে।

ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি মূসক ফাঁকির উদ্দেশ্যে স্থানীয় মূসক কার্যালয়ে (সার্কেল অফিস) প্রতি কর মেয়াদে (মাসে) দাখিলকৃত দাখিলপত্রে পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের কোনও তথ্য উল্লেখ না করেই দাখিলপত্র জমা দিয়েছে।

ভ্যাট ফাঁকি ও নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে সোমবার একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।