ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

ঢামেকে লাশ নিতে গেলে স্বজনদের মারধরের অভিযোগ

রাজধানীর পূর্ব নাখালপাড়ায় গত শুক্রবার (১৯ মার্চ) দুই তালা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয় আমির হামজা (৯) নামে এক শিশু। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালেন ২০৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) রাত ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। শিশুটির মৃতদেহ বাসায় নিয়ে যাওয়ার সময় ডিউটিরত আনসারদের সঙ্গে স্বজনদের হাতাহাতি হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, হট্টগোলের একপর্যায়ে কয়েকজন আনসার সদস্য মৃত শিশুটির মা পোশাক শ্রমিক লিপি বেগমকে বন্দুকের বাট দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় মৃতের বাবা লিটন হোসেন তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করেন আনসার সদস্যরা।

মৃতের বাবা লিটন বলেন, ‘গত শুক্রবার দুপুরে পূর্ব নাখালপাড়ার একটি দুই তলা বাসার ছাদে ঘুড়ি ধরতে যায় হামজা। সেখানে বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে যায় সে। ওই দিনই তাকে ঢামেক হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ৮টায় তার মৃত্যু হয়।’ 

তিনি বলেন, ‘পরে লাশ নিতে গেলে আমাদের মারধর করা হয়েছে। হাসপাতালের স্টাফ, অ্যাম্বুলেন্স স্টাফ, দর্শনার্থীরাও বিষয়টি দেখেছেন। একজন নারীকে মারধর করেছেন কয়েকজন আনসার সদস্য।’ এ ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি। 

এ ব্যাপারে ঢামেক হাসপাতালের আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি, একটি বাচ্চা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। ডাক্তারের অনুমতি ছাড়া লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় আনসাররা বাধা দিলে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।’

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিসিটিভির ফুটেজ দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মারা যাওয়া শিশুটির মা’কে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’