থানায় মারধরের কারণে হামিদুর নামে একব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশসহ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র-আসক।
শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানায় আসক।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামালের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হামিদুরের পরিবার থেকে পুলিশের নির্যাতনের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে দাবি করা হলেও পুলিশ তা অস্বীকার করেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। একইসঙ্গে আসক হামিদুরের মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। পাশাপাশি হামিদুরের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানাচ্ছে আসক।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় একটি পারিবারিক সমস্যা মীমাংসা করে দেওয়ার জন্য থানায় বৈঠক ডেকে হামিদুর রহমান (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দুই দিন পর আহত হামিদুর রক্তবমি করলে তার পরিবার তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে হামিদুরের মৃত্যু হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্র এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছে।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায় যে, প্রায় ১৭-১৮ দিন আগে হামিদুর ও তার স্ত্রী ফাইমা খাতুনের মধ্যে পারিবারিক কলহ হয়। এতে হামিদুর তার স্ত্রীকে মৌখিকভাবে তালাক দিলে তার দুই ছেলে তাকে মারধর করেন। বিষয়টি নিয়ে হামিদুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর গত ১৭ এপ্রিল সমঝোতার কথা বলে পুলিশ উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে নেয়। সেখানে হামিদুর তার স্ত্রীকে মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। গত ২৫ এপ্রিল ফাইমা থানায় অভিযোগ করেন যে, হামিদুর তাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নেননি। এরপর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম সমঝোতার কথা বলে হামিদুরকে তার বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যান। পরিবারের অভিযোগ— সেদিন সমঝোতা বৈঠকে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ হামিদুরকে লাথি ও ঘুষি মেরে গুরুতর আঘাত করেন। যদিও সেদিন হামিদুরকে থানার হাজতে রেখে কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেয় পুলিশ। ওই ঘটনার পর মাথায় ও বুকে আঘাত পাওয়া হামিদুর বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গত ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় হামিদুর রক্তবমি করা শুরু করলে তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তার অবস্থার উন্নতি না হলে রাত ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।