নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ওপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়লো

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক ৫৪ হাজার নিবন্ধনধারীকে নিয়োগ দেওয়া সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তির স্থগিতাদেশের মেয়াদ আগামী ২৩ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রথম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের মধ্যে রিটকারীদের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের পরবর্তী আদেশের জন্য ২৩ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রিটকারীদের পক্ষে আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২০ মে) বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে এনটিআরসিএ’র পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। অন্যদিকে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান ও মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।

এর আগে ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছিলেন। ওই রায়ে কয়েক দফা নির্দেশনা ছিল। তার মধ্যে একটি ছিল সম্মিলিত মেধা তালিকা অনুযায়ী রিট আবেদনকারী এবং অন্যান্য আবেদনকারীদের নামে সনদ জারি করার।

কিন্তু দুই বছরেও রায় বাস্তবায়ন না করায় রিট আবেদনকারীরা আদালত অবমাননার আবেদন করেন। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এ রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় ৩০ হাজার প্রার্থীর জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে এনটিআরসিএ। এরপর নিয়োগ থেকে বিরত থাকতে একটি আবেদন করেন রিটকারীরা।

২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। এই সময়ে আদালত অবমাননার বিষয় নিষ্পত্তি না করে তারা শিক্ষক নিয়োগের কোনও বিজ্ঞপ্তি দিতে পারবে না বলে আদেশে বলা হয়। নিবন্ধিত নিয়োগবঞ্চিত কয়েকশ’ প্রার্থীর আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

পরে গত ৭ মার্চ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রথম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে এনটিআরসির চেয়ারম্যানকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। একইসঙ্গে নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন করতে বলেন আদালত। তবে আদালতের সে আদেশ বাস্তবায়ন না করায় পুনরায় এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়।

আরেকটি আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ৬ মে এনরিআরসিএ কর্তৃক প্রথম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের মধ্যে রিটকারীদের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাত দিনের মধ্যে নিয়োগের সুপারিশ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ৫৪ হাজার নিবন্ধনধারীর নিয়োগ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি এক সপ্তাহের মধ্যে স্থগিত করেছিলেন আদালত। এনটিআরসিএ’র চেয়ার‌ম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা মামলার শুনানি নিয়ে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।